আজ দুই ভেন্যুতে শুরু হচ্ছে খেলা
চ্যাম্পিয়ন ১৫ লাখ টাকা
রানার্স আপ ৭ লাখ টাকা
ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট ১ লাখ টাকা
প্রতি ম্যান অব দ্য ম্যাচ ২৫ হাজার টাকা
ম্যাচ ফি:
‘এ’ গ্রেড খেলোয়াড় ৫০ হাজার টাকা
‘বি’ গ্রেড খেলোয়াড় ৩০ হাজার টাকা
* জাতীয় দলের সকল খেলোয়াড় ‘এ’ গ্রেড এবং বাকীরা ‘বি’ গ্রেড বলে গণ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলন শুরু হতে একটু দেরি হচ্ছে।
এক পাশে জড়ো হয়ে কথা বলছিলেন জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন এবং বর্তমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও জাতীয় দলের তিন তারকা মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন ও মুমিনুল হক। হঠাত্ দেখায় মনে হয়, জাতীয় দল নিয়ে কোনো শলাপরামর্শ হচ্ছে।
আসলে জাতীয় দল নিয়ে নয়, আলোচনা করছিলেন তারা আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) নিয়ে। আর এখানে তাদের পরিচয়ও ঠিক জাতীয় দলের সাবেক-বর্তমান নয়। মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ, নাসির ও মুমিনুল সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন বিসিএলের চার দলের অধিনায়ক হিসেবে। আর আকরাম বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এবং খালেদ মাহমুদ প্রাইম ব্যাংকের পরিচালক ও দলের কোচ।
আজ ঢাকা ও ফতুল্লার দুটি ভেন্যুতে একই সঙ্গে বিসিএলের প্রথম দিনে মাঠে নামছে চারটি দল। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল। দিনের অন্য খেলায় ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল। টুর্নামেন্টের সব খেলাই অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাড লাইটে। তাই আজকের দুটি খেলাও শুরু হবে দুপুর দেড়টা থেকে।
তবে প্রথম দেখার সেই মনে হওয়াটা একেবারে ভুল নয়। যদিও আজ থেকে নতুন যাত্রা শুরু করা বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টে কে কেমন করে চান; সে সব নিয়েই আলোচনা হলো সংবাদ সম্মেলনে। তবে সবার কণ্ঠেই একটা ব্যাপার খুব পরিষ্কার যে, এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের প্রস্তুত করে তোলা।
বিসিবির পরিচালক আকরাম তার কথাতে এই ব্যাপারটা খুব পরিষ্কার করে দিলেন, ‘জাতীয় দলের তারকাদের নিয়ে এমন একটা জমজমাট আসর করার ইচ্ছা ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর আগে থেকেই ছিল। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে যেহেতু সামনে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে হবে আগে, তাই জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ভালো একটা অনুশীলনের সুযোগ দেয়াটা বড় চিন্তা ছিল। এ সময় সবাই যার যার ফর্মটা ধরে রাখার সুযোগ পাবে এবং যারা জাতীয় দলে ঢোকার চেষ্টা করছে, তারা নিজেদের প্রমাণের আরেকটা মঞ্চ পাবে।’
জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এই বিসিএল কতটা উপকার করবে, সে নিয়ে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনেই প্রশ্ন উঠল।
প্রায় আড়াই মাস অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ভয়ানক ক্লান্তিকর ক্রিকেট ও ভ্রমণ করে এসেছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। অনেকেই ক্লান্তিজনিত দুর্বলতা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে ১৭ তারিখ থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে লম্বা সিরিজ শুরু এবং তারও এক সপ্তাহ আগে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। পাকিস্তানের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজসহ আগামী পাঁচ মাসে চারটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে হবে বাংলাদেশকে। বছরের শেষ দিকে খেলতে হতে পারে একটি চার জাতি টুর্নামেন্ট।
এমন অবস্থায় একটা ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলোয়াড়দের ইনজুরি ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেবে কি না, এমন প্রশ্ন উঠেছিল। জাতীয় দল ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক মাশরাফি একটু কূটনৈতিক উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলেন। তিনি মানছেন, আরেকটু বিশ্রাম হলে ভালো হতো, ‘আসলে কিছু করার নেই। আমাদের জন্য ভালো হতো যদি পাকিস্তান সিরিজটা আরও কিছুদিন পর অনুষ্ঠিত হতো। সেটা হলে এই প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্টটাও হয়তো পিছানো হতো। কিন্তু এই দ্বিপাক্ষিক সফর তো অনেক আগে ঠিক হয়ে থাকে। তাই এ নিয়ে আফসোস করে লাভ নেই। যে বিশ্রাম পেয়েছে সবাই, আশা করি, কাজে লাগাতে পেরেছি আমরা। এটা ঠিক যে, পাকিস্তানের বিপক্ষে টুর্নামেন্ট খেলাটা আমাদের জন্য উপকারীই হবে।’
মাশরাফি নিজে পুরো টুর্নামেন্ট খেলতে পারবেন কি না, সেটা নিশ্চিত না হলেও তিনি অন্তত কোনো ইনজুরি জটিলতায় ভুগছেন না, এটা নিশ্চিত করলেন।
আকরাম জানালেন, সাকিব-তামিম ছাড়া জাতীয় দলের প্রায় সবাইকেই পাবে বিসিএল। এর মধ্যে তামিম হয়তো টুর্নামেন্টের মাঝামাঝি এসে দায়িত্ব নেবেন পূর্বাঞ্চলের। তার আগ পর্যন্ত সে দলের নেতৃত্ব দেবেন মুমিনুল হক। এদিকে উত্তরাঞ্চলের স্কোয়াডে টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম থাকলেও দলের নেতৃত্ব দেবেন নাসির হোসেন। আকরাম জানালেন, মুশফিক আপাতত নেতৃত্ব থেকে একটু দূরে থাকতে চাইছেন। আর মধ্যাঞ্চলের নেতৃত্ব দেবেন মাহমুদউল্লাহ।
