ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে একক প্রার্থী নির্ধারণ হলেও প্রতি ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে হিমশিম খাচ্ছে আওয়ামী লীগ। ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৯৩টি ওয়ার্ডের (উত্তরে-৩৬টি, দক্ষিণে-৫৭টি) গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে ৭ জন করে প্রার্থী আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী। যারা কাউন্সিলর প্রার্থী হবেন তারা তৃণমূল সংগঠনের আগামী কমিটিতে দলীয় কোন পদ পাবেন না বলেও দলের হাইকমান্ড ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া দলের হাইকমান্ড হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে, দল যাকে সমর্থন দেবে তার পক্ষে দলীয় সব নেতা-কর্মীকে কাজ করতে হবে। দলের নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের হাইকমান্ডের এমন নির্দেশনার পরও আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী কাউন্সিলর প্রার্থীর সংখ্যা কমছে না।
জানা গেছে, ওয়ার্ডে তৃণমূল পর্যায়ের সব নেতা-কর্মীর কাছে গ্রহণযোগ্য, ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেন এমন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের একক কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেবে আওয়ামী লীগ। আগামী ৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগে অর্থাত্ ৮ এপ্রিলের মধ্যে দল সমর্থিত একক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা একক কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাউন্সিলর প্রার্থী ঠিক করার ক্ষেত্রে নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তা হচ্ছে দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাউন্সিলর পদে সমর্থন করা যাবে না। আবার কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওয়ার্ড সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক করা যাবে না। এ নির্দেশনা মেনেই গঠিত কমিটি দফায় দফায় বৈঠক করে একক প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। শিগগিরই দলীয় সভানেত্রীর কাছে এ তালিকা দেয়া হবে। একই সঙ্গে ১৪ দলের শরিকরাও তাদের পছন্দের একটি তালিকা শেখ হাসিনার কাছে জমা দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তা ঘোষণা করা হবে।
জানা গেছে, ঢাকা-৪, ৫, ৮ ও ৯ আসনে একক কাউন্সিলর প্রার্থী করার দায়িত্ব পেয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। ঢাকা-১০ ও ১৩ আসনের দায়িত্ব পেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ঢাকা-৬, ৭, ১২ ও ১৮ আসনে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফর উল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও সাহারা খাতুন। ঢাকা-১১ ও ১৭ আসনের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ ফারুক খান। ঢাকা-১৪, ১৫ ও ১৬ আসনের দায়িত্বে আছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।
কমিটির সদস্যরা জানান, আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন প্রত্যাশী ৭ শতাধিক প্রার্থী। যাদের সবাই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, মহানগরের বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের স্থানীয় নেতা। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে তারা দিন-রাত ঘরোয়াভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। কাউন্সিলর পদের জন্য এত বেশিসংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে নামায় এ নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতাদের মধ্যে বেড়েছে অস্বস্তি। তারা বলেন, পছন্দের প্রার্থীর বাইরে অন্য প্রার্থীদের নিবৃত্ত করা অনেকটা দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় সভানেত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এটা সম্ভব হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে আওয়ামী লীগ একক কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে সক্ষম হবে।
