সাত মাসের শিশুর পেটে ২২ সপ্তাহের ভ্রূণ!

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০১৫, ২১:২২
 
 
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সাজিয়া জান্নাত নামে সাত মাসের এক শিশুর পেটে ২২ সপ্তাহ বয়সী একটি ভ্রূণের অস্তিত্ব পেয়েছেন চিকিত্সকরা। শিশুটি জামালপুর সদর উপজেলার দখলপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম ও আঞ্জুমান খাতুনের মেয়ে। ১৩ মার্চ থেকে ঢামেক হাসপাতালের শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে (২০৩) চিকিত্সাধীন রয়েছে সে।
 
ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আশরাফ উল হক কাজল বলেন, পরীক্ষা করে শিশু সাজিয়ার পেটের মধ্যে একটি মানব ভ্রূণের মেরুদণ্ড, হাত, পা ও মাথার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভ্রূণটির বয়স ২২ সপ্তাহ। আগামী বুধবার অপারেশন করার প্রস্তুতি চলছে। আশা করি শিশুটিকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে।
 
শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাজিয়ার জন্ম হয়। তার বয়স চার মাস হওয়ার পর পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় হতে শুরু করে। পরে তাকে গাজীপুরের আল হেরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিত্সকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পেটে টিউমারের কথা জানায়। চিকিত্সকরা উন্নত চিকিত্সার জন্য ভাল কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন।
 
এরপর সাজিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার পেটে অন্য একটি শিশুর ভ্রুণের অস্তিত্বের কথা জানান চিকিত্সকরা। সেখান থেকে ১৩ মার্চ ঢামেক হাসপাতালে শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে (২০৩) ভর্তি করা হয়।
 
ঢামেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. আশরাফ উল হক কাজল জানান, গর্ভধারনের সময় শিশুটির মায়ের পেটে জমজ শিশু জন্ম নেয়। তখন তাদের মধ্য থেকে একটি ভ্রূণ বেড়ে ওঠে, অপরটি আর বেড়ে ওঠেনি। এক পর্যায়ে বেড়ে ওঠা ভ্রূণটি গর্ভে থাকা অবস্থায় অপর ভ্রূণটিকে আবৃত করে ফেলে। এতে সাজিয়ার পেটে ওই ভ্রূণটি চলে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তার পটেই ওই ভ্রূণটি বেড়ে উঠতে শুরু করে।