নাসির-বীরত্বে শুরু বিসিএল

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৪৩
খেলার বাকী দুই ওভার; উত্তরাঞ্চলের জয়ের জন্য দরকার ১৫ রান। এই অবস্থায় ৬৯ রানে অপরাজিত নাসির প্রথম তিন বলেই একটি বাউন্ডারিসহ বের করে নিলেন ৭ রান। ম্যাচ তখন নাসিরদের হাতের মুঠোয়। তখনই আউট নাসির; এক বল পর আউট মুক্তার আলীও।
 
কী হবে এখান থেকে?
 
হ্যা, এমন টানটান উত্তেজনার ভেতর দিয়ে শুরু হলো বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। ফতুল্লায় শেষপর্যন্ত স্নায়ুর এই লড়াইয়ে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে সানজামুলের দৃঢ়চেতা দুই বাউন্ডারিতে ভর করে দুই উইকেটের জয় পেয়েছে নাসিরদের দল।
 
অন্যদিকে আরাফাত সানির বোলিং নৈপুণ্যে বিসিএলের মিরপুরের ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে ছয় উইকেটে জয় পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল।
 
দক্ষিণাঞ্চল-পূর্বাঞ্চল
 
গতকাল রবিবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)’র প্রথম খেলায় টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণাঞ্চল।
 
আরফাত সানি ও নাবিল সামাদের ঘূর্ণি বলে শুরু থেকেই উইকেট হারাতে থাকে মাশরাফি বিন মুর্তজার দক্ষিণাঞ্চল। ওপেনার সৈকত আলী উইকেটের এক প্রান্ত আগলিয়ে রাখলেও অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যানরা ছিলেন যাওয়া-আসার মধ্যে।
 
সৈকত আলীর ৫১ রানের পরও ৩৮.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২২ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণাঞ্চল। পূর্বাঞ্চলের হয়ে মাত্র ১১ রানের খরচায় চার উইকেট শিকার করেন আরাফাত সানি। দুই উইকেট নেন নাবিল সামাদ।
 
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হেসেখেলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পূর্বাঞ্চল। ২৬ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে মুমিনুল হকের দল। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন ওপেনার লিটন কুমার। দক্ষিণাঞ্চলের  হয়ে ২৮ রানের খরচায় দুই উইকেট শিকার করেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেয়া রুবেল হোসেন।   
 
মধ্যাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল
 
ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে নাসির হোসেনের ৭৬ রানের সুবাদে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে দুই উইকেটে জয় পেয়েছে বিসিবি উত্তরাঞ্চল। বিসিএলে নিজেদের প্রথম খেলায় জয় পেলেও শুরুতে ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি উত্তরাঞ্চল। ৯৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে নাসির হোসেনের দলটি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ৫৭ রান করেন নাসির। ১৯ রানে আরিফুলের বিদায়ের পর একাই দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান অধিনায়ক নাসির হোসেন। জয় নিশ্চিত হতে পূর্বাঞ্চলের প্রয়োজন ৮ বলে ৮ রান। এমন অবস্থায় উইকেট হারান নাসির। শেষদিকে সানজামুল ইসলাম পরপর দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মধ্যাঞ্চলের হয়ে মোশাররফ হোসেন তিন উইকেট শিকার করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি।   
 
এর আগে ব্যাট করে শামসুর রহমান শুভর অপরাজিত ৭৬ রানের কল্যাণে ২০৯ রান সংগ্রহ করেছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে তারা। এরপর রীতিমতো উইকেট পতন। শামসুর রহমান শুভর অপরাজিত ৭৬ রানের সুবাদে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে তারা। ২৯ রানের খরচায় তিন উইকেট শিকার করেন উত্তরাঞ্চলের তাইজুল ইসলাম।