সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ভবিষ্যতের চিন্তা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:০৩
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হারে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দ্বিতীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেশি। সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ চিহ্নিতকরণে সড়ক পরিবহন বিভাগের যান্ত্রিক অনুবিভাগ সাধারণত টেকনিক্যাল বিষয়ের প্রাধান্য দিয়ে থাকে। দেড়শ বছরের পুরনো ভেহিকেল আইনে যান্ত্রিক ত্রুটি, লাইসেন্সবিহীন অথবা জাল লাইসেন্সধারী চালক এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করাকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী করা হয়। এর সাথে সড়কের বেহাল দশা ও বেপরোয়া গতিতে চালকের গাড়ি চালানোকে কদাচিত্ দোষারোপ করা হয়।
 
ঘনবসতিপূর্ণ ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের ছোট এই ভূখণ্ডে সড়ক পথে মোটরযানের সংখ্যা বিপুল। এর সংখ্যা দিনদিন গাণিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে দেশের গণপরিবহনের আশি শতাংশই সড়কপথে চলাচল করে। সড়ক পরিবহন সেই সব দেশে অধিকতর উপযোগী যেখানে পঞ্চাশ থেকে একশ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো জনপদ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে পাঁচ কিলোমিটার সড়ক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যেখানে সড়কের পাশে জনবসতি কিংবা কোনো হাটবাজার, শহর-বন্দর নেই। দেশি তৈরি নছিমন করিমন, ভটভটিসহ সব ধরনের মোটরযান প্রায় সারাক্ষণই সড়ক মহাসড়ক জুড়ে চলাচল করে। দেশের পণ্যপরিবহনেও পঁচাশি শতাংশই মোটরযান। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদনদীর নাব্যতা হ্রাস, বেড়িবাঁধ, অপরিকল্পিত স্লুইস গেট, নদী দখল-খাল দখলের ফলে দেশের একমাত্র ভাটি অঞ্চলের সাগর মোহনা ছাড়া আভ্যন্তরীণ জলপথ বিলুপ্ত, কেবলই রূপকথার গল্প।
 
এদিকে দেশের রাজধানীসহ অন্যান্য মহানগরীতে যানজটের কারণে প্রতি বছর যে পরিমাণ জ্বালানি অপচয় হয় তা দিয়ে কম করে হলেও বিশ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা সম্ভব বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। বৃষ্টি ও বন্যাপ্রবণ  আমাদের দেশে বছরে দুই থেকে তিন বার সড়ক মেরামত, সংস্কার ও সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু আধুনিক পদ্ধতিতে রেলপথ নির্মাণ করা হলে বা রেলপথকে আধুনিকায়ন করা হলে সেটি মেরামত ও সংস্কার ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদী হয়।
 
তাই, স্বল্প আয়তনের অধিক জনসংখ্যার এই দেশটিকে সড়ক দুর্ঘটনার মহামারী থেকে রক্ষা করতে হলে রেলপথ সম্প্রসারণ ও যুগোপযোগী করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। তথ্য প্রযুক্তির পাশাপাশি ডিজিটালাইজ্ড পদ্ধতিতে রেলপথের দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। স্থানীয় চলাচল ছাড়াও দূরবর্তী যাত্রায় যাত্রীরা যেন সড়কপথের পরিবর্তে রেলপথেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেই মহাপরিকল্পনা এখনই গ্রহণ করা দরকার। তাহলে ভবিষ্যতে পরিবেশ বান্ধব রেল পরিবহন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি থেকেও দেশকে রক্ষা করতে সহায়ক হবে।
n লেখক : সাংবাদিক
ই-মেইল [email protected]/* */