জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে ঢুকে মা-বাবা ও ভাইদের সামনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বাস্তুহারা লীগের সিনিয়র সহসভাপতি রফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ সময় তাকে বাঁচাতে মা-বাবা ও ভাই-ভাবীরা এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও কুপিয়ে জখম করে।
রবিবার রাতে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার কৃষ্ণনগর (চন্ডিতলা) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রূপগঞ্জের কৃষ্ণনগর এলাকার কাশেম মাওলা পাঁচ মাস আগে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের ফুফু সেলিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম ও শাহিনা বেগমের কাছ থেকে দুই শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে কাশেম মাওলা দুই শতকের চেয়ে আরো বেশি জমি দাবি করেন। তিনি একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামের জমিও দখলে নেন। এ নিয়ে দুই মাস আগে কাঞ্চন পৌরসভা কার্যালয়ে সালিশ বৈঠক হয়। এ সময় মেয়র দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু কয়েকদিন পর কাশেম মাওলা আবার জমি দখল করতে যান। রবিবার সকালে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কাশেম মাওলার বাগ্ববিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে কাশেম মাওলার নেতৃত্বে মোসেন মিয়া, কবির মিয়া, রয়েল, জুয়েল মিয়া, বাবু, মঞ্জুর, আল আমিন, আশিক, ইউসুফসহ ১৫-২০ জনের একটি দল রফিকুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা রফিকুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। তাকে উদ্ধারে মা মোসলেহা বেগম, বাবা মুক্তিযোদ্ধা সানাউল্লা, ভাই আল আমিন, আমিনুল ইসলাম, ভাবী বেবী আক্তার, চাচা শহিদুল্লা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। মূমুর্ষূ অবস্থায় সানাউল্লা মিয়া, মোসলেহা বেগম ও আল আমিন মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। কাশেম মাওলা ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারে পুলিশ রাতেই একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে। কাশেম মাওলার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হালিশহর ও রূপগঞ্জ থানায় হাফ ডজন মামলা রয়েছে।
