প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নাশকতার কারণে প্রায় তিন মাস দুঃসময় গেল। এ সময়ে তারা যে জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিন মাসের এই দুঃসময় ধৈর্য সহকারে মোকাবিলা করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, পটুয়াখালী জেলা ও নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন এবং ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত পুড়িয়ে মানুষ মেরেছে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করেছে। আমরা যারা জনগণের জন্য রাজনীতি করি তাদের সবার প্রশ্ন, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো জঘন্য কাজ তারা করলো কিভাবে? তিনি বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই।
প্রধানমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, এক একটি জেলা একটি বিষয়ের জন্য বিশেষায়িত থাকে। এগুলো খুঁজে বের করে সেগুলোকে আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি। বরিশাল বিভাগে সেনাবাহিনীর জন্য একটি ডিভিশন করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও ঝালকাঠির মাঝামাঝি স্থানে এ ডিভিশন হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা শুনে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। নেত্রকোনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সাথে কনফারেন্সের সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে মত্স্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ এলাকায় প্রথমে গৃহহীন মানুষ খুঁজে বের করা এবং তাদের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেয়া ছাড়াও গৃহনির্মাণে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো মানুষ যেন গৃহহারা না থাকে সেজন্য খাস জমিগুলো ব্যবহার করতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় এ ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলো ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিস এবং শরিয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সুজাতার সাক্ষাত্
বাসস জানায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দু’দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে কয়েকটি ভাল ফলাফল ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ বাংলাদেশ সফরের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব (বহুপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক) সুজাতা মেহতা গতকাল সোমবার বঙ্গবভনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে একথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোদীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।
সুজাতা মেহতা বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বর্তমানে চমত্কার সম্পর্ক বজায় রয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরো জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সচিব জানান, ভারতের আরো ৩ থেকে ৪টি কোম্পানি বাংলাদেশের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।