মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাত করেছেন। কামারুজ্জামানের স্ত্রী নূরুন্নাহার, দুই ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামি ও হাসান ইমাম ওয়াফি, মেয়ে আতিয়া নূর ও ভাগ্নি রোকসানা জেবিন এবং ৪ জন শিশুসহ ১২ জন তার সঙ্গে দেখা করেন।
গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছান। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তারা কারাগারের ভিতরে প্রবেশ করেন। রাত পৌনে আটটার দিকে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। সাক্ষাত শেষে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামি জানান, রায়ের কপি পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন তার বাবা। তিনি আরো বলেন, ‘বাবা শারীরিকভাবে সুস্থ ও মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন। তার সর্বশেষ ইচ্ছা ইসলামী আন্দোলনের বিজয় দেখা। তিনি আমাদের বলেছেন, তোমরা সব সময় সত্য কথা বলবে। সত্ পথে চলবে। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখবে। আমরা হাসিমুখে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছি। তিনি আমাদের হাসিমুখে বিদায় দিয়েছেন। ’
প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করবেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা ফরমায়েশী রায়। রায়ের কপি পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি (কামারুজ্জামান)।
রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর কামারুজ্জামানের সঙ্গে বিকাল ৫টার মধ্যে দেখা করতে তার স্বজনদের চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। আইন অনুসারে ফাঁসির রায় কার্যকর করার আগে স্বজনদের শেষ সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়।
মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর শেরপুরে তার প্রতিষ্ঠিত এতিমখানার পাশে কবর দিতে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করেছেন কামারুজ্জামান।
