ফাঁসির প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৫, ০০:৩৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) খারিজের কপি এখনো তাদের হাতে পৌঁছেনি। তাই ফাঁসি কার্যকর করা যাচ্ছে না। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী ইত্তেফাককে বলেন, ‘রায়ের কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর আগে গতকাল বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান ফটকে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘রায় পুনর্বিবেচনার কপি পেলে সেই অনুযায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। আমাদের প্রস্তুতি আছে।’

কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনায়ও (রিভিউ) বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ। গতকাল সোমবার সকালে কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেন তারা। এরপর ফাঁসির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে কারা কর্তৃপক্ষ। এই যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা চাইবেন কি-না সে প্রশ্নের সুরাহা না হওয়ায় আটকে আছে তার ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া। দণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতি জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বলেন, ‘কারা কর্তৃপক্ষ ‘সব প্রস্তুতি’ নিয়ে রেখেছে।’          কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী বলেন, ‘আমরা এখনো রায় পুনর্বিবেচনা খারিজের (রিভিউ) কপি পাইনি। কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ তবে অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও এ কপি এসে পৌঁছতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফরমান আলী বলেন, ‘কপি পাওয়ার পর কামারুজ্জামানকে তা পড়ে শোনানো হবে। তিনি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। আর ক্ষমা প্রার্থনা না করলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’ ক্ষমা না চাইলে কি আজ (সোমবার) ফাঁসি কার্যকর করা হবে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেটা এখনই বলতে চাচ্ছি না, সেটা পরে বলব।’
কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের কেন কারাগারে ডাকা হলো— এমন প্রশ্নের জবাবে ফরমান আলী বলেন, ‘নিয়মের আওতায় তাদের ডাকা হয়েছে। সাধারণত বিকাল ৫টার পর কাউকে দেখা করতে দেয়া হয় না। এ কারণে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের ৫টার মধ্যে আসতে বলা হয়েছে।’ এটাই শেষ দেখা কি-না তাও বলেননি তিনি। আইনজীবীদের সাক্ষাত্ না করতে দেয়া প্রসঙ্গে ফরমান আলী বলেন, এই পর্যায়ে এসে আইনজীবীদের সাক্ষাত্ করতে দেয়ার সুযোগ নেই। জেল কোডের মধ্যে থেকে যা যা করা দরকার আমরা তা করছি। 
এর আগে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মুস্তাফিজুর রহমান মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আইজি (প্রিজন) বরাবরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠান। পরে কারাগারে কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হলে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দুই জনের ফাঁসি হবে। আগে কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ এ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এদিকে সকালে রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পরপরই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সন্ধ্যায় কারাগারের সামনে রাস্তায় যান চলাচলও বন্ধ করে দেয়া হয়। সাংবাদিকরাও ভিড় করেন।