অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করতে গিয়ে শুরুতেই হোঁচট খেলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল লিজে আনা উড়োজাহাজ দিয়ে বিমান তার অভ্যন্তরীণ পাঁচটি রুটে মোট ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আগে থেকেই সময়সূচি নির্ধারণ করে।
এরমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটটি সকাল ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রা বিলম্বিত হয়। এক ঘণ্টার বেশি সময় পর চট্টগ্রামগামী যাত্রীদের উড়োজাহাজে উঠিয়ে ফ্লাইটটি রানওয়ে দিয়ে অগ্রসর হয়। কিন্তু উড্ডয়নের পূর্ব মুহূর্তে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে পাইলট উড্ডয়ন না করে উড়োজাহাজটি পার্কিং বে-তে নিয়ে আসেন। পরে যাত্রীদের নামিয়ে টার্মিনালের মধ্যে দীর্ঘসময় বসিয়ে রাখা হয়। এ সময় যাত্রীরা টার্মিনালে বিক্ষোভ করেন। হামলার ভয়ে বিমানের কর্তব্যরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পালিয়ে যান।
দুপুর ১টার দিকে বিমানের একটি বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজে করে যাত্রীদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। আর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্বোধনী ফ্লাইটের অপেক্ষমান যাত্রীদের মাস্কাট থেকে আসা বিমানের বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ফ্লাইটে (বিজি ০২২) ঢাকায় আনা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ‘ফ্লো কন্ট্রোল বাল্ব’ বিকল হয়ে যাওয়ায় ওই উড়োজাহাজটি এখন গ্রাউন্ডেড (অকেজো) করা হয়েছে। বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় এই স্পেয়ার আনার চেষ্টা চলছে। এই স্পেয়ার না আসা পর্যন্ত উড়োজাহাজটি উড়বে না।
এদিকে ইজিপ্ট এয়ারের কাছ থেকে পাঁচ বছরের জন্য লিজে আনা দুইটি ড্যাশ-৮ টার্বো প্রোপেলার উড়োজাহাজের মধ্যে একটি গ্রাউন্ডেড হয়ে যাওয়ায় গতকাল ঢাকা-সৈয়দপুর রুটের ফ্লাইট বাতিল করা হয়। অকেজো উড়োজাহাজে সচল না হওয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে সপ্তাহে বিমান কর্তৃপক্ষ ১২০টি ফ্লাইট পরিচালনার যে সময়সূচি নির্ধারণ করেছে তাতে বিপর্যয় দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ব্যাপারে বিমানের কোন কর্মকর্তাই মুখ খুলতে রাজি হননি।
বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে আরো দুটি বোয়িং
চলতি বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব উড়োজাহাজ বহরে যোগ হচ্ছে আরো দুটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ। এরমধ্যে একটি নভেম্বর এবং অপরটি ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে বিমান এই উড়োজাহাজ কিনছে। এর আগে বোয়িং কোম্পানি বিমানকে চারটি বোয়িং-৭৭৭ ইআর উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে।
এদিকে বিমান কর্তৃপক্ষ বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭- ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ ক্রয় করছে। নতুন প্রজন্মের এই উড়োজাহাজ কেনার জন্য ইতিমধ্যে বোয়িং কোম্পানির সাথে বিমানের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। আগামী ২০১৯ সালে দুটি এবং ২০২০ সালে বাকি দুটি ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যোগ হবে।
এদিকে চলতি বছরের শেষ দিকে যে দুটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ আসছে তার নামকরণ করা হয়েছে ‘মেঘদূত’ ও ‘ময়ূরপঙ্খী’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নামকরণের ঘোষণা দেন।
