সব বিতর্ক আর ঝামেলাকে পিছু ঠেলে ভারতের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই মাঠে গড়াবে বলে বিশ্বাস সাকিব আল হাসানের। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এই অলরাউন্ডার সাবধানে এড়িয়ে গেছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল-শ্রীনিবাসনের দ্বন্দ্বের বিষয়টি। যেটিকে এই সিরিজ ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পৃথক আরেক সাক্ষাত্কারে সাকিব কথা বলেছেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নিয়েও। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ সিরিজে অংশ নিতে প্রথম দুই ম্যাচ খেলেই আপাতত ভারত থেকে ফিরতে হচ্ছে সাকিবকে। তবে তার অনুপস্থিতি কলকাতার শিরোপা ধরে রাখার পথে বড় কোন বাধা হয়ে আসবে না বলে মনে করছেন তিনি।
টেস্ট এবং ওয়ানডে মিলিয়ে ভারতের পূর্বনির্ধারিত সংক্ষিপ্ত ঐ সিরিজ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা দ্রুতই কেটে যাবার আশাবাদ সাকিবের। মাঠের বাইরের রাজনীতিতে কোন ক্রমেই নাক গলাতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভারত বাংলাদেশ সফর করবে এবং এই জাতীয় (সফর বাতিল) কিছুই ঘটবে না। এখন পর্যন্ত আমার বিশ্বাস এমনই এবং আমি নেতিবাচক কিছুই ভাবছি না।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দারুণ পারফরম্যান্স দেশের ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ আমাদের দারুণভাবে সমর্থন জানিয়ে গেছে। (ভাল ফলের জন্য) খুব বড় একটা ব্যাপার ছিল এটা। বিশ্বকাপে আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল ধারাবাহিকতা। প্রতিটি ম্যাচ হয়তো আমরা জিততে পারিনি কিন্তু প্রতি ম্যাচেই ভাল ক্রিকেট খেলেছি আমরা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও খুব ইতিবাচক ব্যাপার ছিল এটা।’
নিজ মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় আইপিএল’র অষ্টম আসরে অধিকাংশ ম্যাচই খেলতে পারছেন না সাকিব। তবে তাকে ছাড়াও অর্থসমৃদ্ধ এই টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে কলকাতা সক্ষম হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সাংবাদিকদের সাকিব বলেন, ‘আমার অনুপস্থিতি কোন সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চ খুবই শক্তিশালী। আমাদের দলের গভীরতা অনেক বেশি। এটা দীর্ঘমেয়াদী একটা টুর্নামেন্ট, যে কেউ ইনজুরিতে পড়তে পারে। তবে আমাদের ব্যাকআপ প্রস্তুত। সব মিলিয়ে আমাদের দলটি ভারসাম্যপূর্ণ।’
আইপিএলে দলের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে খেলার পর ১৭ এপ্রিল প্রথম ওয়ানডের আগেই দেশে ফিরবেন তিনি। তবে সিরিজ শেষে আইপিএল’র গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে আবার খেলার সুযোগ থাকছে তার। কলকাতার হয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে এই বাঁ-হাতি তারকা বলেন, ‘লীগ পর্বের শেষ দুই ম্যাচেও সম্ভবত আমি খেলতে পারব। অবশ্যই আমার লক্ষ্য হবে গত বছরের মতো দলের পক্ষে অবদান রাখা।’
নিজ দলের বোলিং বিভাগকে ‘স্পিন প্রধান’ হিসেবে উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ইডেন গার্ডেন স্বভাবতই মন্থর গতির বোলিং সহায়ক। তাই তাদের লক্ষ্য হবে নিজ মাঠে সব ম্যাচ জিতে প্লে অফের পথ সহজ করে ফেলা। তিনি বলেন, ‘নিজ মাঠে আমরা স্পিনারদের কাছ থেকে কিছুটা সহায়তা পাব। অতএব আপনি যদি এখানে সব ম্যাচ জিততে পারেন তবে এটা কোয়ালিফাই করার জন্য সহজ হবে। শুরুটা ভাল করতে পারলে শেষ পর্যায়ে যাওয়াটা অবশ্যই সহজ হবে। তবে (আমাদের দুই শীর্ষ পেসার) মরনে মরকেল এবং উমেষ যাদব বিশ্বকাপে খুবই ভাল করেছেন। তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’
সাকিব ছাড়াও দলে স্পিনার হিসেবে রয়েছেন সুনিল নারাইন, চায়নাম্যান বোলার ব্র্যাড হগ, অফ স্পিনার জোহান বোথা এবং আনকোড়া কেসি কারিপ্পা এবং আরেক চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব। সাকিব আরো বলেন, ‘দলের মধ্যে স্পিনারদের ভেতর একটা প্রতিযোগিতা রয়েছে। এটা দলের জন্য খুবই ভাল; কেননা সবাই মাঠে তার সেরাটা দিতে চেষ্টা করবে।’
নিজ মাঠে আগামী ৮ এপ্রিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং ১১ এপ্রিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু দুই হেভিওয়েটের বিপক্ষে খেলবে কেকেআর এবং সাকিব বলেন, শুরু থেকেই ধারাবাহিক হতে হবে এবং কোন কিছু নিয়ে পরীক্ষা করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘টি-২০ ক্রিকেটে কোন দলের বিপক্ষে কোন ম্যাচই সহজ নয়। গত তিন-চার মৌসুমে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভাল করে আসছি। আমাদের লক্ষ্য ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা। নতুন কিছু নিয়ে চেষ্টা করাটা ভাল হবে বলে আমি মনে করছি না।’—এনডিটিভি স্পোর্টস/ জি নিউজ
