ঘণ্টাখানেকের বৃষ্টিতেই ডুবে যায় বন্দরনগরী

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ০৯:৪০
স্বভাবতই বিষয়টি এখন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর ভোটপ্রার্থীদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। কারণ এক দেড় ঘন্টার ভারী বর্ষণেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম মহানগরী। খাল-নালা-নিচু এলাকা উপচে আসা কোমর সমান পানি ডুবিয়ে দেয় নগরীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা। প্রত্যক্ষ ক্ষতি ও বিড়ম্বনার শিকার হন এতে নগরীর প্রায় ১৫ লক্ষ অধিবাসী। গত বিশ বছরে বৃষ্টিতে এধরনের প্লাবনজনিত বিপর্যয় নগরীতে ক্রমাগত বেড়েছে। গত এক দশকে প্রতিবছর বর্ষায় নগরবাসীকে তিন থেকে চারবার এই ভয়াল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে পুরোনো মেয়র-কাউন্সিলরদের এনিয়ে ভোটারদের কাছে বড় ধাক্কাই খেতে হবে এবার।
প্রতিবারের এক থেকে দেড় ঘন্টার ভারী বর্ষণে কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাঠঘাট, সড়ক এবং বিভিন্ন স্থাপনা। আর্থিক হিসাবে প্রতিবার এধরনের প্লাবনে চট্টগ্রাম মহানগরীর হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে চট্টগ্রাম চেম্বার এবং খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন। পুরোদমে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই গত ৬ এপ্রিল মাত্র এক ঘন্টার ভারী বর্ষণে আবারো ভয়াবহভাবে প্লাবিত হলো চট্টগ্রাম মহানগরী। এই প্লাবন শুরু হলে চল্লিশ লাখেরও বেশি মানুষের এই মহানগরী একটানা প্রায় ৮ থেকে ১২ ঘন্টার জন্য অচল হয়ে যায়। ডুবে যাওয়া জনপদের পাশাপাশি নগরীর সুদীর্ঘ রাজপথেও স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার যানবাহন। কারণ খাল-নালা উপচানো কোমর সমান প্রবল পানির স্রোত ঠেলে চলাচলের সাধ্য কোনো যানবাহনের নেই। এই অবস্থাটি অতীতের মতো গত সোমবারও নীরব দর্শকের মতো অবলোকন করল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। নগরীর এই দুরবস্থার জন্য পরস্পরের দিকে দোষারোপের আঙ্গুলতো ছিলোই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বল্লেন, সরকারি বড় বড় নালানর্দমা দখল করে বহুতল ভবন, মার্কেট, বাড়িঘর বানালে এরকমতো হবেই। তিনি জানালেন চট্টগ্রামে সোমবার অপরাহ্নে যে ভয়াবহ বৃষ্টির পানির প্লাবন বা ওভারফ্লো হয়েছে, তাতে নগরীর একটি বিরাট অংশের বাড়িঘর, আঙ্গিনা, রাস্তাঘাট, মর্কেট এমনকি নালানর্দমাতেও বিপুল পরিমান কাদা জমেছে। যা সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীদেরকে একটানা শ্রম দিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত অপসারণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, খাল, নালা, জলাশয় ও রাস্তাঘাট রক্ষণাবেক্ষণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এগুলো তৈরি করা, অস্তিত্ব রক্ষা করা সিডিএ’র দায়িত্ব।
এদিকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে প্লাবন ও জলাবদ্ধতা নিরসন করছেন অনেক প্রার্থী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌলিক সমস্যাগুলোর গোড়ায় গিয়ে সমাধান করা না হলে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ভারী বর্ষণ জনিত প্লাবন প্রতিবছর ভয়াবহভাবে বাড়বে। পরিস্থিতি যদি এরকম থাকে চট্টগ্রামে অদূর ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমি ধসেরও সৃষ্টি হতে পারে।