‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় একত্রে কাজ করতে হবে’

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ০৯:৫৫
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা কোন দেশের একক সমস্যা নয়। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের কারণে গোটা পৃথিবী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে আমরা টিকে আছি। যে গোষ্ঠী এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে পারেনি তারা নিঃশেষ হয়ে গেছে। তিনি এ সমস্যা মোকাবেলায় সব দেশকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠককালে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় শুধু অর্থই নয়, দক্ষ জনশক্তি এবং শক্তিশালী অবকাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যুকে গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনায় নিয়েছে। এ লক্ষ্যে যে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে তার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যে জাপান সরকারের অর্থায়নে বুড়িগঙ্গা, শীতালক্ষ্যা, তুরাগ এবং বালু নদীর দূষণ রোধে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কাজটি করা হচ্ছে।
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সমস্যা আমরা আয়ত্তে আনতে পারি। তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ইতিমধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয় জোরালো ভূমিকা রেখেছে। ট্যানারি শিল্পের বর্জ্য শোধনের জন্য কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা হয়েছে। ওবামা প্রশাসন জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিকে গুরুত্বের সাথে নেয়ায় তিনি মার্কিন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ব্লুম বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশে আসার আগে আমি যতটুকু জেনেছি তাতে অভিভূত হয়েছি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি প্রতিবছরই এ সংক্রান্ত সম্মেলনের আয়োজন করে যাচ্ছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে তাতে পরিবেশ ইস্যুকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। যেসব শিল্প-কারখানা পরিবেশ দূষণ করে না, তাদের সাথে কাজ করতে উত্সাহ বোধ করে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি হচ্ছে- টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বন্যপ্রাণী চোরাচালান আজ সারা পৃথিবীর জন্য একটি সমস্যা। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী চোরাচালান বন্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা দিতে পারে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ইউএসএইড বাংলাদেশ-এর পরিচালক জানিনা জারুজেলস্কি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইস উদ্দিন আহমেদ মণ্ডল, প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুছ আলী, ইউএসএইড-এর পরিবেশ বিষয়ক টিম লিডার ড. কার্ল রেস্টলার বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে বাংলাদেশের পরিবেশ ও বন খাতে মোট চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ‘বেঙ্গল টাইগার কনজার্ভেশন একটিভিটি’ প্রকল্প, ‘ক্লাইমেট রেসিলেন্স ইকো সিস্টেম এন্ড লাইভলিহুড’ প্রকল্প, ‘ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনভেন্ট্রি এন্ড স্যাটেলাইট ফরেস্ট মনিটরিং সিস্টেম ইন সাপোর্ট অব রেড ক্লাস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্প এবং ‘স্ট্রেনদেনিং এন্ড এনভায়রনমেন্ট ফরেস্ট্রি এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ ক্যাপাসিটি অব দ্যা মিনিষ্ট্রি অব এনভায়রনমেন্ট ফরেস্ট্রি এন্ড ইটস এজেন্সিস’ প্রকল্প।