স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ভেজাল খাদ্য ব্যবসায়ীদের মৃত্যুদণ্ডতুল্য শাস্তি হওয়া উচিত। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন হলে খাদ্যে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার/ সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার’ স্লোগানে মঙ্গলবার বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে সুস্থ জীবন ও নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে সরকারের। সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়ে এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। জনগণকে এ লক্ষ্যে সচেতন করে তোলাই প্রাথমিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, জনগণ যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তাহলেই খাবারে ভেজাল মেশানো বন্ধ করা সম্ভব হবে। জনসচেতনতা বাড়ালে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ভেজাল খাবার বলে কিছুই থাকবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, খাদ্য পরিদর্শকদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে, যারা খাদ্যে ভেজাল মেশায় তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার জন্য। তারা বেতন-ভাতা নেবে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে না তা হতে পারে না। ভেজালের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে না পারলে চাকরি করার দরকার নেই।
গত সেপ্টেম্বরে দেশের উপজেলাগুলোতে ৬ হাজার চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামপর্যায়ে অবশ্যই ভালো চিকিত্সক থাকতে হবে। আমি যতদিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, ততদিন পর্যন্ত গ্রামে চিকিত্সক পাঠানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপন করার জন্যও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দীন মোঃ নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, বিএমএ’র মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি এন পারানিথারান, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডেভিড ডব্লিউ ডোনার্ট প্রমুখ। সভার শুরুতে মোহাম্মদ নাসিম ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। দিবসটি উপলক্ষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের লবিতে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা উপকরণের প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রদর্শনীর স্টলসমূহ পরিদর্শন করেন।
