বড় জয়ে শুরু শেখ জামালের, শেখ জামাল ৪-১ ফরাশগঞ্জ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ১১:৪৯
দেশের অনেক স্থানেই ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেও খেলোয়াড়-দর্শকদের ভিজতে হলো বৃষ্টিতে। তবে বৈরী আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারলো না শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের জয়ের পথে। মান্যবর প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গতকাল ৪-১ গোলে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবকে হারিয়েছে তারা।
 
শেখ জামাল বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন। তাদের প্রতিপক্ষ পুরান ঢাকার ফরাশগঞ্জ। পুনরায় পেশাদার লিগে ফিরে এসেছে। এই দুই দলের পার্থক্যটা অনেক। ফরাশগঞ্জ তারুণ্যনির্ভর দল। আর শেখ জামালের লাইনআপে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের লম্বা লাইন। জাতীয় দলই ধরে নেয়া যায়। এমন দলের শক্তির বিচারে ফরাশগঞ্জ পেরে উঠবে না এটা সহজ হিসাব। তারপরও লিগে অঘটন ঘটে। শুরুতেই তেমন সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিচ্ছিল ফরাশগঞ্জ। ম্যাচের ৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার একিনলে পিটারের গোলটি ফরাশগঞ্জকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। পুরান ঢাকা থেকে আসা ফরাশগঞ্জের শুভাকাঙ্ক্ষিদের ঠোঁটেও হাসির ছটা দেখা গেছে। কিন্তু কে জানতো  সেই হাসি মাত্র ছয় মিনিটের জন্য।
 
এগিয়ে থাকা ফরাশগঞ্জকে সমতায় আসতে বাধ্য করলো নিজেদের একটা ভুল। অফসাইডের ফাঁদ পাততে গিয়ে তারা নিজেরাই ধরা পড়লেন। শেখ জামালের উইংব্যাক ইয়ামিন মুন্নার ক্রসের বলটি মাটিতে পড়তে দেননি হাইতির স্ট্রাইকার ওয়েডসন। রানিং বলের উপর পা ছুঁয়ে দিয়ে জালে ঢোকালেন বল, ১-১। টেনশনে থাকা শেখ জামাল কর্মকর্তারাও যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। হয়তো তারা মনে করছিলেন পচা শামুকে বুঝি পা কাটলো। মনে করবেই না কেন। এই ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধেই তো শেখ জামালের হারের অভিজ্ঞতা আছে। সেই স্মৃতি সহজে ভুলতে পারেন না জামালের শীর্ষ কর্তারা। বিপদ মাথার উপর ঝুলে থাকতে দেয়নি শেখ জামাল।
 
প্রথমার্ধের ১-১ স্কোর লাইনটা বাড়তে শুরু করলো দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম তিন মিনিটে। দারুণ একটা গোল করলেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড ল্যান্ডিং ডারবো। ফ্রিকিক থেকে দারুণ গোল করেছেন ল্যান্ডিং ২-১। বৃষ্টি ভেজা মাঠে বলের গতি যেন দ্বিগুণ। ফরাশগঞ্জের অধিনায়ক, গোলকিপার সুজন চৌধুরী দেখলেনই না বল জালে যাচ্ছে। ৭৫ মিনিটে শেখ জামালের স্কোর লাইনটা পরিবর্তন করে ৩-১ এ নিয়ে গেলেন দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। আর শেষ দিকে এসে আরো দুর্বল হয়ে পড়া ফরাশগঞ্জ চতুর্থ গোল হজম করলো, ল্যান্ডিং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ৪-১।  
 
২০১০-১১ মৌসুমে পেশাদার লিগ থেকে অবনমন হয়েছিল ফরাশগঞ্জ। তারপর আর দেখা মেলেনি। আবার ফিরলেও দলে এখন নতুন খেলোয়াড়দের সংখ্যাই বেশি। অনেকেরই নাকি ৫০ মিনিটও খেলার সামর্থ্য নেই। তার উপর তরুণ খেলোয়াড়দের মাথায় ঘুরপাক খায় প্রতিপক্ষের নাম শেখ জামাল। অধিনায়ক সুজন বললেন, ‘এই ভয়টা কাজ করে আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে।’
 
তবে ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে তৃপ্ত নন শেখ জামালের কোচ মারুফুল হক। তিনি বলেছেন, ‘ফরাশগঞ্জ অনভিজ্ঞ দল একারণে হেরেছে ওরা। যাই হোক জয় দিয়ে টুর্নামেন্টটা শুরু হওয়া দরকার ছিল। আমাদের আরো ভালো খেলতে হবে।’ শেখ জামালের অধিনায়ক নাসির চৌধুরীকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছিল কাল, আর্ম ব্যান্ড ছিল ইয়ামিন আহমেদের হাতে। লিগে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে, রেফারি মিজানুর রহমান ব্যবহার করলেন ভ্যানিশিং স্প্রে। ফ্রিকিকের সামনে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা কোথায় দাঁড়াবেন তার জন্য এই স্প্রে। যেটা দেখা গিয়েছিল বিশ্বকাপ ফুটবলে।
 
আজকের খেলা
আবাহনী ঃ রহমতগঞ্জ এবং
মুক্তিযোদ্ধা ঃ সকার ক্লাব (৪টা ১৫, ৬টা ৩০)।