ইরানের পরমাণু চুক্তিকে স্বাগত সৌদি আরবের

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ১২:৫৭
ইরানের বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের খসড়া চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। সোমবার সৌদি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মতো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হবে বলে তারা আশা করে। বৃহস্পতিবার ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া- তেহরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে একটি খসড়া চুক্তি করে। এই চুক্তি অনুযায়ী আগামী অন্ততপক্ষে এক দশক ইরানের পরমাণু গবেষণা সীমিত পর্যায়ে থাকবে, বিপরীতে ইরানের উপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেয়া হবে। এই খসড়া চুক্তির কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করে আগামী তিনমাসের মধ্যে দু’পক্ষ একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছুবে।
 
সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ’তে প্রকাশিত মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মন্ত্রিসভা আশা করছে, বেঁধে দেয়া বাধ্যবাধকতা ও সুনির্দিষ্ট চুক্তি এই অঞ্চলের ও বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতাকে সংহত করবে।”
 
এতে আরো বলা হয়, “চূড়ান্ত চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও আরব উপসাগরীয় এলাকাকে পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরনের ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র মুক্ত করার পথে নিয়ে যাবে বলে সৌদি আরব আশা করে।”
 
ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে দেশটি সিরিয়া, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে সৌদি আরবের বিরুদ্ধ পক্ষগুলোকে তুমুলভাবে সহায়তা শুরু করতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রক্ষণশীল সুন্নি মুসলিম বাদশাশাসিত সৌদি আরব, ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে শরিয়া আইন চালু করা শিয়া মুসলিমশাসিত ইরানকে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। ১২ দিন ধরে সহযোগী উপসাগরীয় সুন্নি আরব দেশগুলোকে নিয়ে প্রতিবেশী ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের ওপর টানা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে ইয়েমেন অন্যতম, যেখানে ইরান ও সৌদি আরব পরস্পর বিরোধী দুটি পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে।