ভোটার চায় মাদক সন্ত্রাস ও হকারমুক্ত পরিবেশ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:৪০
রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিভিন্ন কলোনি নিয়ে গঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের ১০ নম্বর ওয়ার্ড। আগে এটি ছিল ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাস এ অঞ্চলে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের আত্মীয়রাই মূলত এ ওয়ার্ডের ভোটার। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৮০ জন। এ ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে, মতিঝিল এইচ টাইপ কোয়ার্টার, টিএন্ডটি কলোনি, পোস্টাল কলোনি, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, মতিঝিল কলোনি, পিডব্লিউডি স্টোর কম্পাউন্ড এবং ওয়াসা কোয়ার্টার।
 
সরেজমিনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরো ওয়ার্ডটি সরকারি কলোনি হওয়ায় মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ ও খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টারসহ নাগরিক সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ হকারই এ এলাকার মূল সমস্যা। এছাড়া কিছু কলোনিতে পানির সমস্যা রয়েছে। আর এসব সমস্যাগুলো সমাধান হোক সেটাই চাওয়া এ এলাকার ভোটারদের। তারা বলছেন, সরকারি কলোনিতে থাকার পরও মাদক ও সন্ত্রাস সমস্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের সন্তানরা বিপথে চলে যাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা বেড়ে ওঠার জন্য যাতে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ পেতে পারেন সেজন্য প্রার্থীদের উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া কলোনি এলাকায় অবৈধ হকারদের উত্পাতে বেশ বিরক্ত এ অঞ্চলের বাসিন্দারা।

 
১০নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও ১০ জন। এর মধ্যে ৫ জনই আওয়ামী লীগ অনুসারী। এরা হলেন, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি শহীদ রেজা বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল উদ্দিন বাবু, কার্যকরি কমিটির সদস্য ও চিটাগাং ইউনিভার্সিটি এক্স-স্টুডেন্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ মনসুর, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের মতিঝিল থানা সভাপতি ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসরুর আহমেদ। বিএনপি থেকে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মো. হারুনুর রশিদ ও মিজান উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মো. জুবের আলম খান (রবিন), এনপিপি থেকে মো. শাহনেওয়াজ পারভেজ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনসুর আলী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দল যাকে সমর্থন দেবে তার পক্ষেই কাজ করবেন তারা। তবে সেটাও নির্ভর করছে দল কাকে সমর্থন করবে তার উপর এমন আভাসও দেন তারা।
 
এ এলাকার কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেছেন। এসব অঙ্গীকার নিয়ে প্রচার প্রচারণাও শুরু করেছেন। ২০০২ সালে নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন মো. হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর এ ওয়ার্ড মডেল ওয়ার্ড হিসাবে অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার পায়। ঢাকা শহরের প্রথম টাইলস করা ফুটপাত করি আমিই। এ এলাকায় পানি ও ড্রেনেজ সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনব।
 
‘সবাই মিলে শপথ করি, মাদককে না বলি। সবাই মিলে শপথ করি, সন্ত্রাসকে না বলি।’ এ স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন মারুফ আহমেদ মনসুর। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে কিভাবে একটি সুন্দর ওয়ার্ডে পরিণত করা যায় সে চেষ্টা করব।
 
জাহিদুল ইসলাম টিপু বলেন, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কমিউনিটি সেন্টার এবং হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করার ইচ্ছা আছে। একইসঙ্গে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একটি ওয়াইফাই জোন করব। এ এলাকা সন্ত্রাস, মাদক ও হকারমুক্ত করতে সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।
মাসরুর আহমেদ বলেন, এ অঞ্চলে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস সমস্যা রয়েছে। এছাড়া বহিরাগতদের আড্ডাও এলাকাবাসীর জন্য উপদ্রব। এসব সমস্যা থেকে এলাকাবাসীকে উদ্ধার করব। আর এ অঞ্চলে খেলাধুলার যে ঐতিহ্য ছিল তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা থাকবে বলেও জানান তিনি।
মো. জুবের আলম খান (রবিন) বলেন, এলাকার সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে এ ওয়ার্ডকে সুন্দর থেকে সুন্দরতর করাই আমার মূল লক্ষ্য।
মো. শহিদ রেজা (বাচ্চু) বলেন, শতভাগ শিক্ষিত এ অঞ্চল থেকে মাদক ও সন্ত্রাস দূর করে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনব। এছাড়া বহিরাগতদের যে উপদ্রব আছে তা থেকেও এলাকাকে মুক্ত করব। তিনি বলেন, এ এলাকায় নির্দিষ্ট কাঁচাবাজার থাকার পরও আইডিয়াল স্কুলের সামনে অস্থায়ী মাছ-তরকারি বসায় এলাকা নোংরা হচ্ছে। অস্থায়ী এ বাজার তুলে দেয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
 
বেলাল উদ্দিন বাবু বলেন, এ অঞ্চলের সন্তানরা যেন সুস্থ সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে সেজন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করার কাজ করার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিদের। এ ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে আমি সে কাজটিই করব। একইসঙ্গে নাগরিক সুবিধার জন্য যা করা দরকার তা করব।