আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২২
 
 
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রিভিউ রায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। রায়ের এই অনুলিপি হাতে পাওয়ায় কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এখন প্রাণভিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা বাকি। এদিকে  কামারুজ্জামানের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তার আইনজীবীরা সাক্ষাৎ করবেন।

কামারুজ্জামানের আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে তার আইনজীবীদের সাক্ষাতের অনুমতি দিয়েছে।

এর আগে গত ৪ এপ্রিল পাঁচজন আইনজীবী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

আইনজীবীরা হলেন- এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির, ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, এডভোকেট মশিউল আলম, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং এডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। আইনজীবীরা জানিয়েছিলেন তারা কামারুজ্জামানের সঙ্গে রিভিউ আবেদনের শুনানি বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ করেন।
 
IMG0
 
এর আগে বুধবার দুপুরে রায়ের কপিতে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। পরে সুপ্রিমকোর্ট থেকে রায়ের কপি ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে রায়টি পৌঁছানে হয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে।
 
IMG1
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কারা কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তারা কামারুজ্জামানের কাছে জানতে চাইবেন তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না। কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে তা পাঠানো হবে সরকারের কাছে। আর তিনি প্রাণভিক্ষা না চাইলেও কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি সরকারকে জানাবে। সরকার দণ্ড কার্যকরের নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা ও নির্যাতনের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ৯ মে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। কামারুজ্জামান ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর সর্বোচ্চ আদালতও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। এর সাড়ে তিন মাস পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়। তখনই মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কামারুজ্জামানকে তা পড়ে শোনানো হয়।