আপিলের রায়ে কোন ভুল ছিলো না

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৫, ২৩:৫০

ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা এম কামারুজ্জামানের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গতকাল বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে। রিভিউর রায়ে বলা হয়েছে, আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ১১, ১২ এবং ১৩ নাম্বার সাক্ষীর ব্যাপারে যেসব বিষয় উত্থাপন করেছেন তা নতুন কিছু নয়। আপিলের সময়ই তা বিস্তারিত পরীক্ষা করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর ভিত্তিতেই তা করা হয়েছে। আমরা এ আদালতের কোন ভুল খুঁজে পাইনি। শোনা কথার সাক্ষ্য অন্য সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত হতে হবে বলে আসামি পক্ষ যে যুক্তি উত্থাপন করেছেন আইনের ধারা তা সমর্থন করে না। রায়ে বলা হয়, আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় আমরা এটা পরিষ্কার করেছি যে, আন্তর্জাতিক আইন এখানে প্রযোজ্য হবে না। নতুন এভিডেন্স দাবি করে ‘মহিলা মুক্তিযোদ্ধা’ নামের যে বই দাখিল করা হয়েছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুত্বর সন্দেহ রয়েছে। অসত্ উদ্দেশ্যে বইটি লেখা হয়েছে। বইটি পড়লে বোঝা যায়, একাত্তরে রাজাকার-আলবদররা কোন অপরাধই করেনি।

রিভিউর এ রায়টি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী। ৩৬ পৃষ্ঠার এ রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী স্বাক্ষর করেন। এরপর রায়টি সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাঠানো হয়। সেখান থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে তা পাঠিয়ে দেয়া হয় কারা কর্তৃপক্ষের হাতে।

বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর লিখিত রায়ে বলা হয়, রিভিউর শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শুনানিতে বলেছেন, “বঙ্গবন্ধুতো সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। নতুন করে এটা আবার তুলে ধরার দরকার কি?” এ প্রসঙ্গে রায়ে বলা হয়, আসামি পক্ষের আইনজীবীর এই বক্তব্যটি সত্য নয়। বঙ্গবন্ধু শুধু যারা কোন ফৌজদারি অপরাধ করেনি তাদের ক্ষমা করেছেন। তবে যারা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন তাদের ক্ষমা করেনি। রায়ে বলা হয়, সত্য হলো এটাই, ১৯৭৫ সালে স্বাধীনতা বিরোধীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এ বিচার কাজ বিলম্বিত করেছে। নয়তো বহু আগেই এইসব অপরাধীরা শাস্তি পেতো। মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন যে, সারাবিশ্ব মৃত্যুদণ্ড থেকে দূরে সরে এসেছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতও বলছে, যেখানে মৃত্যুদণ্ড নিতান্তই প্রয়োজন সেখানেই মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলে, আমরা (বিচারক) যদি নিতান্তই প্রয়োজন মনে করেই মৃত্যুদণ্ড দেই, তাহলে এর চেয়ে আর বেশি প্রয়োজন আর কি হতে পারে। একাত্তরে কামারুজ্জামানদের অত্যাচার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নািস বাহিনীর অত্যাচারকেও হার মানায়। তাদের অত্যাচার ওই সময় বিশ্ব বিবেককেও প্রকম্পিত করেছিল। এর ফলে শুধু যারা প্রাণ হারিয়েছে শুধু তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হননি, গোটা জাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।