ঢাকা উত্তরে প্রস্তুত তাবিথ আউয়াল

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৫, ০৮:৩৯

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে করা আপিলের শুনানি হবে আজ বৃহস্পতিবার। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিন্টু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হতে না পারলে তার বড় ছেলে তাবিথ আউয়ালকেই সমর্থন দেবে বিএনপি। তাবিথ জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। বিএনপির পূর্বের অবস্থান ছিল মিন্টুর বিকল্প হিসাবে বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরীর পক্ষে। তবে মাহীর ঘোর বিরোধিতা করছেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতসহ অধিকাংশ শরিক দল। বিএনপির একটি বড় অংশও মাহীর বিপক্ষে। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে অবস্থান পরিবর্তন করছে বিএনপি।

বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, মিন্টুর বিকল্প হিসাবে মাহীকে মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। শত নাগরিক কমিটির কেউ কেউ মাহীর পক্ষে জোরালো সমর্থনও দিয়েছিলেন। তবে দলের হাইকমান্ডের কাছে মাহীর বিষয়ে লিখিত কিছু নেতিবাচক তথ্য দেয় জোটের একাধিক শরিক দল। কেউ কেউ মোবাইল ফোনে এসএমএস করে মাহীর বিরুদ্ধে মতামত দেন।
তারা মাহীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা হলো: মাহী বি. চৌধুরী গণজাগরণ মঞ্চের সমর্থক ছিলেন। সেই সময় তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে কিছু কটূ কথাও বলেন। ওয়ান ইলেভেনে তারেক রহমানের গ্রেফতার ও নির্যাতন প্রসঙ্গে মাহী ‘উল্লাস’ প্রকাশ করেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, কেবল জামায়াতই নয়, শরীক অন্যরাও মাহীকে সমর্থন দেয়ার বিরুদ্ধে তাদের মতামত জানিয়েছেন হাইকমান্ডকে। তাদের মতামতের প্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়া গত সোমবার রাতে তাবিথ আউয়াল ও তার মা নাসরিন আউয়ালকে বাসায় ডেকে পাঠান। তারা বেগম জিয়াকে মিন্টুর মনোনয়পত্র ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তারা জানান, সেটা ছিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ভুল। বেগম জিয়া তাবিথকে প্রস্তুত থাকতে বলেন। তাবিথ ইত্তেফাককে বলেন, এখন বাবার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করছি আপিলে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। আর দলের নির্দেশ মতো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।
এদিকে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মিন্টু আপিলে না টিকলে এবং কোনো কারণে তাবিথ নির্বাচন না করলে উত্তর সিটিতে বিএনপি মাহীকে সমর্থন দেবে না। প্রয়োজনে কাউকেই সমর্থন দেবে না। তারা বলেন, মাহীকে সমর্থন দিলে ২০ দলীয় জোট ভেঙ্গে যেতে পারে।
২০ দলের শরিক এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, মাহী বি. চৌধুরী ২০ দলীয় জোটের কেউ না। ২০ দলের বাইরের কাউকে প্রার্থী হিসাবে এলডিপি সমর্থন করবে না। ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি বলেন, তিনি বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতাকে মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে মাহী বি. চৌধুরীকে মেয়র পদে সমর্থন না জানানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চলমান আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্বে যখন বৃহত্তর জোট গঠন হলো, তখন মাহীরা আসেনি। তারা বলেছিল, বিএনপি জোটে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াত আছে, তাদের সঙ্গে এক টেবিলে বসবেন না। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে এক মঞ্চে উঠতে পারলেন না, উনাদের নাকি চরিত্র স্খলন ঘটবে। আর এখন মেয়র হওয়ার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থন লাগে? এটা অনৈতিক ও সুবিধাবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।
কাজ শুরু করেছে ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’

এদিকে অরাজনৈতিক প্লাটফরম থেকে ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণে নির্বাচন পরিচালনার জন্য বিএনপি সমর্থক পেশাজীবীরা ‘আদর্শ ঢাকা আন্দোলন’ নামে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করেছে। এর আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গতকাল বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি গঠনের কথা জানান। সদস্য সচিব করা হয়েছে সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে। এর সদস্যরা হলেন- খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, ড. মাহবুব উল্লাহ, ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, মাহফুজ উল্লাহ, আ ন হ আখতার হোসেন, আবদুল হাই শিকদার ও ফাহিমা নাসরিন মুন্নী।