সালাহউদ্দিনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান আইনজীবীরা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:২১

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদের নিখোঁজের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সালাহউদ্দিনকে আদালতে হাজির করা নিয়ে জারিকৃত রুলের শুনানিতে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এ নির্দেশনা চান।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, একজন মানুষের প্রাণ বাঁচাতে আমরা হাইকোর্টে এসেছি। এ ব্যাপারে যেকোনো আদেশ দেয়ার এখতিয়ার আদালতের রয়েছে। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী এবং বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চে গতকাল বুধবার এ শুনানি হয়। আজ পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
গত ১০ মার্চ সালাহউদ্দিনকে উত্তরার একটি বাড়ি থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ    করা হয়। পরে তার অনুসন্ধান চেয়ে স্ত্রী হাসিনা আহমেদ হাইকোর্টে একটি আবেদন দায়ের করেন। ওই আবেদনের ওপর হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলের জবাবে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আদালতে হলফনামা দাখিল করে বলা হয়, তারা সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করেনি।
রুল শুনানিতে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, পত্রিকায় রিপোর্ট এসেছে ওই বাড়ির কেয়ারটেকার বলেছেন, যারা সালাহউদ্দিনকে ধরে নিয়ে যায় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ বলে পরিচয় দিয়েছে। সালাহউদ্দিনকে তুলে নেয়ার আগে ৭ মার্চ তার গাড়ির চালক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ওসমান, সোহাগ ও খোকনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। পরে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বের করা হয় সালাহউদ্দিন কোথায় আছে। মওদুদ আহমদ ১৯৭৪ সালে রক্ষীবাহিনীর হাতে শাহজাহান শরীফ নামে এক তরুণের আটক ও পরে অস্বীকার এবং এ নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, বিচারপতি দেবেশ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় ঘোষণা করেছিল। শাহজাহান শরীফকে আটকের কথা রক্ষীবাহিনী প্রথমে স্বীকার করলেও পরে অস্বীকার করে। এ নিয়ে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দায়ের করা হলে হাইকোর্ট রক্ষীবাহিনীর প্রধানকে তলব করে। আইনজীবীরা চার দিন তাকে জেরা করেন। হাইকোর্ট ওই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল।
খন্দকার মাহবুব বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আমাদের প্রথম কথা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করেছে। দ্বিতীয়ত, সরকার যদি তা অস্বীকারও করে এটা সরকারের দায়িত্ব তাকে খুঁজে বের করা। তিনি বলেন, পুলিশ ভদ্রলোকের মতো এখানে এসে বলল তারা সালাহউদ্দিন আহমেদকে নেয়নি তাহলেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ওই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য দায়িত্বরত ছিল তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সত্য খুঁজে বের করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন। দেশের অনেক মানুষ অপহূত হয়ে যাচ্ছেন। তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা আজও ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমকে খুঁজে পাইনি। রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবন রক্ষার্থে আদালতের কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আদালত কঠোর হলেই কেবল এ অবস্থা থেকে আমরা কিছুটা পরিত্রাণ পেতে পারি। আল্লাহ না করুক আমাকেও হয়তো গুম করে দেয়া হতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনী সালাহউদ্দিন আহমেদকে আটক করেনি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তার অনুসন্ধানে তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। আদালতের রুল অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।