বাংলাদেশকে হারানো সহজ হবে না বলেই মনে করেন পাকিস্তান দলের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ফাওয়াদ আলম। এ মাসেই অনুষ্ঠেয় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সফরের প্রাক্কালে তিনি গতকাল বুধবার লাহোরে এ কথা বলেন।
পাকিস্তান দল বাংলাদেশ সফরের জন্য বর্তমানে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে জোর অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানেই ফাওয়াদ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সহজ ‘শিকার’ হিসাবে দেখছেন না তারা। এ ক্ষেত্রে তিনি অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নৈপুণ্যের কথা উল্লেখ করেন।
ফাওয়াদ কাল গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন আর কোন সহজ শিকার নয়। পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই তারা সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে।’
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার পর নিজের ফিটনেস ফিরে পেতে অনেক কাজ করেছেন বলে জানান ফাওয়াদ। মারমুখী না হওয়ায় মিডল অর্ডার এই ব্যাটসম্যানকে সমালোচকরা অনেক সময় খাটো করে দেখেন। যদিও এসব সমালোচকের উদ্দেশে পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যানটি জানান, ‘তিনি দলের প্রয়োজনে ছক্কাও হাঁকাতে পারেন।’
ফাওয়াদ বলেন, ‘ছক্কা এবং চার হাঁকানো ছাড়াও এক দুই রানও একটি ইনিংস গড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।’ ওয়ানডে ক্রিকেটে মিসবাহ-উল-হকের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘আমার প্রাথমিক দায়িত্ব হলো ইনিংস গড়া এবং আসন্ন সিরিজে আমি এমনটাই করবো।’
ব্যাটসম্যানটি মনে করেন, ইউনুস খান এবং মিসবাহ-উল-হক পাকিস্তান দলের মিডল অর্ডারে ‘দেয়াল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের অনুপস্থিতিতে এই জায়গা নিজেদের করে নেয়ার জন্য তরুণরা সুযোগ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তান দলের নবনিযুক্ত অধিনায়ক আজহার আলির প্রতি আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে ফাওয়াদ বলেন, ‘আমরা তার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেবো।’
গত বছরের অক্টোবরে ২৯ বছর বয়সী ফাওয়াদ সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি নিয়মিত নৈপুণ্য দেখালেও জাতীয় দলে সবসময় আসা-যাওয়ার পরিস্থিতিতে থাকেন তিনি।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর এ পর্যন্ত ২৪টি টি-টোয়েন্টি, ৩৫টি ওয়ানডে এবং মাত্র তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ফাওয়াদ। ৪৫.১৪ গড়ে রান করা ওয়ানডে ক্রিকেটে এই ব্যাটসম্যানের অর্ধশতক রয়েছে ছয়টি। তিনটি টেস্টে ফাওয়াদ রান তুলেছেন ৪১.৬৬ গড়ে। এর মধ্যে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি রয়েছে তার। যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে করাচিতে জন্ম নেয়া এ ক্রিকেটারের নৈপুণ্য আরো উজ্জ্বল।
দ্যা ডন
