মিশা সাফির জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে। তবে এখন তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তার গণ্ডি পাকিস্তানের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের দেশ তো বটেই বিভিন্ন মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তারুণ্যদীপ্ত কণ্ঠের গায়িকা হিসেবে পাকিস্তানের শ্রোতা-দর্শকের মন জয় করেছেন বহু আগেই। এখন মিশা সাফির গানের ভক্ত শ্রোতার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১৫ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। তার গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘আলিফ আল্লাহ’র ভিডিওটি ইউটিউবে ১৫ মিলিয়ন দর্শক দেখেছেন। সর্বাধিকবার দেখা মিউজিক ভিডিওগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে মিশার গাওয়া আরেকটি গান ‘চোরি চোরি’। বেশ অনেকগুলো প্রচলিত লোকগীতি নতুনভাবে গেয়ে বেশ সাড়া তুলেছেন ৩৩ বছর বয়সী সুন্দরী, স্মার্ট, মেধাবী এই গায়িকা। আজকাল পাকিস্তানি আধুনিক সঙ্গীত অঙ্গনে তাকে সবচেয়ে আলোচিত এবং কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীত তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ওখানকার তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণার উত্স হয়ে উঠেছেন তিনি খুব কম সময়ের মধ্যে। পাকিস্তানের অন্যতম আলোচিত জনপ্রিয় মিউজিক ব্যান্ড ‘ওভারলোড’-এর মাধ্যমে মিশা সাফির মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু। তখন ওই ব্যান্ডের অন্যতম সদস্য ছিলেন তার স্বামী গিটারিস্ট মাহমুদ রহমান। ২০১১ সালে ওভারলোড ব্যান্ড ছেড়ে এককভাবে গাইতে শুরু করেন মিশা। কোক স্টুডিও পাকিস্তানের সিজন থ্রিতে আরিফ লোহারের সঙ্গে গেয়ে রাতারাতি খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যান মিশা। তখনই তার ‘জুগিন’ অ্যালবামের ‘আলিফ আল্লাহ’ গানটি দর্শক-শ্রোতাদের আলোড়িত করে ভীষণভাবে। তার এই গানটি ইউটিউবে ঝড় তোলার পাশাপাশি ‘ককটেল’ ও ‘ডায়েরি অব অ্যা বাটারফ্লাই’ ছবিতে শোনা গেছে। ২০১২ সালে ‘কোক স্টুডিও সিজন ফাইভ’-এ মিশা সাফি ‘ইশক আপ ভি আওয়াল্লা’ নিয়ে আবার আবির্ভূত হন ‘চকওয়ালেস’ ব্যান্ডের সাথে। এবারও বাজিমাত করেন তিনি। বিখ্যাত উর্দু কবি ও গীতিকার ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লেখা ‘দোস্ত এ তানহাই’ গজলটি গেয়েও চমক সৃষ্টি করেছেন পাকিস্তানি এই ভার্সাটাইল সঙ্গীত তারকা। এখন তাকে কনসার্ট আর টিভি শোতে বেশি ব্যস্ত দেখা যায়। গত ২০১৩ সালে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলে অ্যারি ডিজিটালে ‘মিউজিক আইকনস’ রিয়েলিটি শোতে তাকে স্ট্রিংস, আলী আজমত, শাহজাদ হাসান এবং আলমগীরের মতো বিখ্যাত সঙ্গীত তারকাদের সঙ্গে বিচারক হিসেবে দেখা গেছে। মিশা সাফি গানের পাশাপাশি মডেলিং এবং অভিনয়েও সাফল্যের নানা চমক দেখিয়েছেন। পাকিস্তানের টপ মডেল হিসেবে তাকে সবাই চেনে। লরেল প্রসাধনীর পাকিস্তানি ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসেডর হলেও মিশা কোকা-কোলা, ফ্যান্টা, এলজি মোবাইল ফোন, লিপটন চা, মোবলিংক প্রভৃতি অ্যাডে মডেল হয়েছেন। ২০১৩ সালে সেরা ‘শো স্টপার’-এর পুরস্কার পেয়েছেন। বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পাকিস্তানি টিভি ড্রামা সিরিয়ালে অভিনয়েরও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। স্রেফ ছোটপর্দায় নয়; হলিউড, বলিউড এবং পাকিস্তানি সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক-সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন মিশা। মিরা নায়ার পরিচালিত হলিউডি সিনেমা ‘দ্য রিল্যাক্টটেন্ট ফান্ডামেন্টালিস্ট’-এ কেট হাডসন, রিজ আহমেদ কাইফার সাদারল্যান্ড, ওমপুরির মতো নামীদামি বিশ্বখ্যাত তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্রে। কোনোরকম অডিশন ছাড়াই মিশাকে এ ছবিতে কাস্ট করেছিলেন মিরা নায়ার। বলিউডের সুপারহিট এবং বিপুলভাবে প্রশংসিত ছবি ‘ভাগ্ মিলখা ভাগ্’-এ মিলখা সিংয়ের একজন বান্ধবী পেরিজাদের ভূমিকায় তাকে দেখা গেছে। পাকিস্তানি ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ওয়ার’-এ মিশা অভিনয় করেছেন ভারতীয় গুপ্তচর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার চরিত্রে। এখানেও তার পারফর্মেন্স দর্শক-সমালোচকদের বিপুল প্রশংসা অর্জন করেছে। একাধারে একজন গায়িকা, মডেল এবং অভিনেত্রী হিসেবে সাফল্যের চমক দেখিয়েছেন মিশা সাফি। যেখানেই হাত দিয়েছেন, সাফল্য তার হাতে ধরা দিয়েছে। তাকে আধুনিক সময়ের তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয় পাকিস্তানে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মিশা সাফি নিজেকে গায়িকা, অভিনেত্রী কিংবা মডেল হিসেবে নয়, বরং একজন শিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
