হুতি-সমর্থনের অভিযোগ এনে ইরানকে কেরির হুঁশিয়ারি

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৫, ২২:২৮
 
 
 
ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থনের কথিত অভিযোগ নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশটন কার্টার স্বীকার করেছেন, ইয়েমেনে গোলযোগের সুযোগে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখল করেছে। এ দিকে, ইয়েমেনের এডেন শহরে প্রথম দফার চিকিত্সা সামগ্রী পৌঁছালেও সেখানে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। খবর আল-জাজিরা, বিবিসি ও এএফপির।
স্থানীয় সময় বুধবার কেরি বলেন, ‘ইরানের হুমকি টের পাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দেবে। ইরান যদি ওই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না’ বলেও তিনি জানান।
এটা পরিষ্কার যে ইরান হুতি বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করছে—এমনটা দাবি করে পিবিএস নিউজআওয়ারকে কেরি বলেন, ‘অবশ্যই জোগান আছে, যা ইরান থেকে আসছে। প্রতিটি সপ্তাহেই বেশ কিছু সংখ্যক ফ্লাইট আছে, যা ভেতরে উড়ছে।’
কেরি আরো বলেন, ‘ইরানের বোঝা দরকার—যখন অঞ্চলটি অস্থিতিশীল করা হয় অথবা যখন মানুষ সীমানার এপার থেকে ওপারে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে এবং অন্য দেশে প্রকাশ্যে যুদ্ধে জড়ায়, তখন যুক্তরাষ্ট্র নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।’
এরই মধ্যে  মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টার বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইয়েমেনে কিছু ক্ষেত্রে আল-কায়েদা সাফল্য পেয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।’
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেন নাকাতানির সঙ্গে টোকিওতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কার্টার বলেন, ‘ইয়েমেন-ভিত্তিক আল-কায়েদা ইন দি এরাবিয়ান পেনিনসুলা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের জন্য হুমকি। তাই যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে।’
কার্টার আরো বলেন, ‘অবশ্যই একটি বৈধ সরকার সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান অনেক সহজ হয়।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মতে ইয়েমেনের বৈধ সরকারপ্রধান হলেন আবদ্রাবো মনসুর হাদি। তার পক্ষ হয়ে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনে বিমান হামলা শুরু করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন কয়েকটি আরব দেশের একটি জোট। এই হামলার প্রতি সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র। অপর দিকে, এর কঠোর সমালোচনা করে আসছে ইরান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্য অনুসারে—ইয়েমেনে চলমান সংঘর্ষে এ পর্যন্ত  প্রায় ৬৪৩ জন নিহত এবং দুই হাজার দু্ই শরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। এ ছাড়া, গৃহহীন হয়েছে কয়েক লাখ ইয়েমেনীয়।
এ দিকে, ইয়েমেনের এডেন শহরে আড়াই টন চিকিত্সা সামগ্রী পৌঁছেছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স) জানিয়েছে, গত বুধবার নৌকায় করে প্রথম দফার ওই ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে। রেডক্রস জানিয়েছে, বুধবার চিকিত্সাসেবীদের একটি দলও নৌকায় চড়ে এডেনে পৌঁছেছেন। ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই তা এডেনের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ত্রাণ সরবরাহ শুরু হওয়া সত্ত্বেও এডেনের মানবিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত হয়েছে। রেডক্রসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘এডেন বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। সেখানকার দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এ কারণে লোকজন খাদ্য, পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। তারা মৃত লোকের মতো রাজপথে পড়ে রয়েছে। হাসপাতালগুলোর সরঞ্জামও শেষ হয়ে গেছে।’