তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ৭ জন মেয়র প্রার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থী স্বয়ং ও তার অনুমোদিত প্রতিনিধি এসে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ৩ জন, ঢাকা দক্ষিণে ৪ জন মেয়র প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে চট্টগ্রামে কোন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে তিন সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪৮ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে ১৬ জন, দক্ষিণে ২০ এবং চট্টগ্রামে ১২ জন। আজ শুক্রবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আলম জানান, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী, আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ছেলে ববি হাজ্জাজ ও নির্দলীয় মোস্তফা কামাল আজাদীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, দক্ষিণ থেকে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, কাজী আবুল বাসার, মোহাম্মদ রিয়াজউদ্দিন ও ইমতিয়াজ আলম প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
চট্টগ্রাম সিটির রিটার্নিং অফিসার আবদুল বাতেন বলেন, চট্টগ্রামে কোন মেয়র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচনে মেয়র পদে ১২ জন, ২১৩ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৬১ সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ৫৪ জন।
বিকাল ৫টায় পশ্চিম আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইছেন না দলের একাধিক প্রার্থী মেয়র পদে থাকুক। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। উত্তরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক সহযোগিতা চাইলে তার পাশে দাঁড়ানোরও আশ্বাস দেন কবরী।
এর আগে বিকাল ৩টার দিকে ববি হাজ্জাজের পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে আসেন তার ছোট ভাই জুবি হাজ্জাজ মুসা। পরে তিনি জানান, প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বনানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচন কমিশন এমন কোনো জায়গা দেখাতে পারেনি, যাতে তাদের ওপর আস্থা রাখা যায়। যারা আমাকে সমর্থন দিচ্ছিলেন, তাদের ওপর নানা ধরনের প্রতিকূলতা আসছে। নির্দলীয় নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নির্দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিলে তাদের ওপর কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ না থাকলেও অনেককে বহিষ্কার করা হচ্ছে। এটা আমার ওপর এক ধরনের চাপ। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রতিনিধির মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন আবদুস সালাম। তবে বিএনপির আরেক নেতা এস এম আসাদুজ্জামান রিপন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
উত্তরের ভোটের লড়াইয়ে ১৬ মেয়র প্রার্থী
উত্তরে মেয়র পদে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন-আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিকল্পধারার কেন্দ্রীয় নেতা মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাপা সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, সিপিবির আব্দুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, জাসদ সমর্থিত প্রার্থী নাদের চৌধুরী, গণসংহতির মো. জোনায়েদ আব্দুর রহমান সাকি, মো. শামছুল আলম চৌধুরী, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, বিএনপির সাবেক স্থায়ী কমিটির সদস্য চৌধুরী তানভীর আহম্মদ সিদ্দিকীর ছেলে চৌধুরী ইরাদ আহম্মদ সিদ্দিকী, মো. আনিসুজ্জামান খোকন, মো. জামান ভূঞা, শেখ শহিদুজ্জামান, শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ। উত্তর সিটিতে সাধারণ কাউন্সিলর ২৭৭জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর ৮৮ জন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন ১৬৯জন।
দক্ষিণে ২০ মেয়র প্রার্থী
দক্ষিণে লড়ছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাঈদ খোকন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এস এম আসাদুজ্জামান রিপন, জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন মিলন, মো. আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ, মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, মো. আব্দুল খালেক, জাহিদুর রহমান, আবু নাছের মোহাম্মদ মাসুদ হোসাইন, বাহরানে সুলতান বাহার, শাহীন খান, দিলীপ ভদ্র, জাসদ সমর্থিত শহীদুল ইসলাম, শফিউল্লাহ চৌধুরী, এ এস এম আকরাম, আব্দুর রহমান, বজলুর রশীদ ফিরোজ, মশিউর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি ও এডভোকেট আয়ুব হোসেন।
চট্টগ্রামে মেয়র প্রার্থী ১২ জন
চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১২জন প্রার্থী। এরা হলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজম নাছির উদ্দিন, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনজুর আলম, জাপার প্রার্থী সোলায়মান আলম শেঠ, আরিফ মইনুদ্দীন, এম এ মতিন, আবুল কালাম আজাদ, আলাউদ্দিন চৌধুরী, ওয়ায়েজ হোসেন ভুঁইয়া, শফিউল আলম, সাইফুদ্দিন আহমদ, সৈয়দ সাজ্জাদ জোহা এবং হোসাইন মুহাম্মদ মুজিবুল হক।