পাচারের অভিনব কৌশল

থামছে না শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালান, আড়াই কোটি ভারতীয় মুদ্রা আটক

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:১৯

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন ভারতীয় রুপি ও সোনা পাচারের নিরাপদ রুট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিমানবন্দরে প্রতি মাসেই আটক হচ্ছে ভারতীয় রুপি ও সোনার একাধিক চালান। তবুও থামছে না পাচার। জানা গেছে, সাম্প্রতিককালে অভিনব কৌশলে এসব অবৈধ পণ্য পাচার করা হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবারও দুই কোটি ৪১ লাখ ভারতীয় রুপিসহ সাজ্জাদ হোসেন নামে কাতার এয়ারওয়েজের এক যাত্রীকে আটক করেছে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তারা জানান, কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট কিউআর-৬৩৪ ভোর ৪টার দিকে বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটের যাত্রী সাজ্জাদ হোসেনের লাগেজ স্ক্যান করা হলে তার ভেতরে ভারতীয় রুপিগুলো পাওয়া যায়। ওই যাত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পাচারের অভিনব পদ্ধতি প্রসঙ্গে বিমানবন্দরে কর্মরত একাধিক সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চোরাচালান সিন্ডিকেট কৌশলের অংশ হিসেবে নিজেরাই দুই একটা চালান ধরিয়ে দেয়। একটি চালান ধরা পড়লে স্বাভাবিকভাবেই সেদিকেই সবার দৃষ্টি থাকে। এই সুযোগে পিছনে থাকা বাকি চালান সহজে পার করে দেয় সিন্ডিকেট। যে কারণে সিংহ ভাগ চালানই ধরা পড়ে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিমানবন্দরে কর্মরত ১৯টি সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। এই সিন্ডিকেট প্রতি বৃহস্পতিবার কোটি কোটি টাকা ভাগাভাগি করে। এটা তাদের কাছে ‘বিট’ নামে পরিচিত। বিমানবন্দরের বাইরেও বিভিন্ন সংস্থার লোকজন এই অবৈধ টাকার ভাগ পান।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত শনিবার দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইট থেকে ৬২ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগের দিন শুক্রবার হংকং থেকে আসা ফ্লাইট থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ কেজি সোনা। এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরে ৮৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ ভারতীয় রুপিসহ মোহাম্মদ আলী নামের এক পাকিস্তানিকে আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।
এ ব্যাপারে শুল্ক ও গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান বলেন, আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সংস্থা এবং বাইরের যারাই পাচারে জড়িত থাকুক না কেন তাদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে জঙ্গিরা বিপুল পরিমাণ জাল টাকা এবং সোনা আনার উদ্যোগ নিয়েছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। এসব অর্থ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঠেকাতে জঙ্গি সংগঠনগুলো ব্যবহার করতে পারে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করছে।
কাস্টমস ও গোয়েন্দা সূত্র জানায়, পাকিস্তানে কর্মরত একটি গোষ্ঠী এদেশের জঙ্গিদের জাল টাকা ও রুপি সরবরাহ করছে। আর জঙ্গিরা তা বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ করছে। পাকিস্তানের করাচির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রুপি ও টাকা বানানো হয় বলেও তারা জানান।
অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দর দিয়ে পাচার হয়ে আসা ভারতীয় রুপির অধিকাংশই জাল। সাধারণত দেশের সীমান্ত এলাকায় এই রুপি ব্যবহূত হয়। কেনাকাটা বা পাচারের সময় ঘুষ দিতে এটি বেশি ব্যবহার করা হয়।

দুই বিদেশি আটক: শাহজালাল বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ৫ কোটি টাকা মূল্যের তৈরি পোশাকের কাঁঁচামালসহ দুই বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। এদের একজন হলেন পাকিস্তানি নাগরিক মোহাম্মদ গাজ্জাফি এবং অন্যজন ভারতীয় নাগরিক আসিফ হাসান। এই দুই বিদেশি নাগরিকের কাজ করার বৈধতা এবং ভ্যাট নিবন্ধন ছিলো না। এদের সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের যোগাযোগ থাকতে পারে বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।