ওয়ার্ড-২৬, ঢাকা উত্তর

যানজট ও আবর্জনার উত্কট গন্ধ

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ১৩:০১
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা কাওরান বাজার। এই এলাকায় আছে বেশ কিছু বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া রয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানও।
প্রতিদিন ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে অন্তত কয়েকশ’ মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করে এই ওযার্ডে। এই অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। রাস্তাঘাট সরু হওয়ায় যানজট এই এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। এছাড়া রয়েছে স্যুয়ারেজের ময়লা পানি। এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অলিতে-গলিতে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এই ওয়ার্ডটি তেজগাঁও থানার অন্তর্গত বাণিজ্যিক এলাকা কাওরান বাজার, ফার্মগেটের পূর্ব ও পশ্চিম তেজতুরী বাজার, তেজকুনী পাড়া, রেলওয়ে কলোনী, কাজীপাড়া ও সাতরাস্তার কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা ৪৬ হাজার ৪৭৮ জন। পুরুষ ভোটার ২৬ হাজার ২৯ জন এবং নারী ভোটার ২০ হাজার ৪৪৯ জন। 
 
কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১৬ জন। হলফনামায় ভুল তথ্য দেয়ায় ইতিমধ্যেই ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন— জহিরুল হক, মো. আবুল বাশার ভুঁইয়া, শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী, মো. নূর নবী, আব্দুস ছাত্তার খান, মনজুরুল ইসলাম, মো. আব্দুল বারেক, মো. মোজাম্মেল হোসেন, শামীম হাসান, শহীদ চৌধুরী, জোহরা রহমান, মো: ইকবাল হোসেন এবং শরিফ মো: মিজানুর রহমান।
 
ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, কাওরান বাজার এলাকা ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ। স্যুয়ারেজের পানি ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় অধিকাংশ এলাকা। এছাড়া পাড়া-মহল্লার অধিকাংশ সড়ক খানাখন্দ ও কর্দমাক্ত। ময়লা-আবর্জনায় ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। ময়লার দুর্গন্ধে নাক চেপে চলাফেরা করতে দেখা গেছে অনেককেই।
 
এলাকায় একটি খেলার মাঠ থাকলেও খেলার সুযোগ পায় না শিশুরা। এছাড়া নেই কোনো কমিউনিটি সেন্টার। মাদক সমস্যাও প্রকট। এলাকার রেলসড়ক সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের বস্তিতে প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সকল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী। যারা এলাকা উন্নয়নে কাজ করবে তাদেরই নির্বাচিত করবেন বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
 
কাউন্সিলরর প্রার্থী আবুল বাসার বলেন, দলীয় সমর্থনের আশায় নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার ও স্যুয়ারেজের সমস্যা সমাধান করাসহ মাদক নিয়ন্ত্রণ করব। চুরি, ছিনতাই ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।
 
শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এই এলাকা বাণিজ্যিক হওয়ায় যানজট এখানকার প্রধান সমস্যা। এলাকার সড়কগুলো প্রশস্ত করব। বেশ কিছু এলাকায় স্যুয়ারেজের পানি উপচে পড়ছে। এগুলো স্যুয়ারেজের লাইনের আওতায় আনা হবে। নূর নবী বলেন, দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় এলাকাবাসী তেমন নাগরিক সেবা পায়নি। এলাকাবাসী আমাকে নির্বাচিত করলে রাস্তাঘাট সংস্কার, লাইট পোস্ট লাইটের ব্যবস্থা করাসহ যাবতীয় নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হবে।