ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের আশপাশের কিছু অঞ্চল নিয়ে গঠিত ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের ৮ নম্বর ওয়ার্ড। অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর ওয়ার্ড ছিল এটি। গোপীবাগ, কমলাপুর উত্তর ও দক্ষিণ, মতিঝিল বি রেলওয়ে ব্যারাক, জসিমউদ্দিন রোড, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, টিটিপাড়া সুইপার কলোনি, বিআরটিসি কাউন্টার থেকে ইলিদিদার হাউস, আরকে মিশন রোডের আংশিক এ ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। এ ওয়ার্ডের আয়তন আড়াই বর্গকিলোমিটার। ভোটার ২০ হাজার ৭৭৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৭৬১ এবং নারী ভোটার সংখ্যা নয় হাজার ১৬।
সরেজমিন ভোটার ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ওয়ার্ডের সমস্যার মধ্যে অন্যতম পানি সঙ্কট ও জলাবদ্ধতা। সামান্য বেশি বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় অনেক এলাকা। বিনোদনের জন্য নেই কোনো খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার ও কমিউনিটি সেন্টার। তাছাড়া দীর্ঘদিন নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় এসব সমস্যা নিয়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই। এবারের নির্বাচনে সরু রাস্তাকে প্রশস্ত এবং ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন করে পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ডে পরিণত করা এবং পানি সমস্যার সমাধানের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাস ও মাদকের মত নিত্য-নৈমিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে কোন প্রার্থী কতটা ভূমিকা পালন করতে পারবেন তা নির্বাচনের জন্য ফ্যাক্টর হবে। দলীয় পরিচয় যাই হোক যিনি ওয়ার্ডবাসীর উপকারে আসবেন এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন একটি ওয়ার্ড গঠন করতে পারবেন এবং ক্লিন ইমেজধারীকে কাউন্সিলর হিসাবে দেখতে চান ওয়ার্ডবাসী।
এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১৩ জন প্রার্থী। একজনের প্রার্থিতা আগেই বাতিল হয়। পরে বৈধ প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে ১২ জনের নাম। তারা হলেন শাকিল আহমেদ, মো. ফিরোজ আলম, মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, গাজী মাজহারুল ইসলাম (গোফরান), মো. আশ্রাব হোসেন রাসেল, সাবিনা জাহান, মিয়া হোসেন, মো. মুজাম্মেল হোসেন, মো. ইসমাইল হোসেন, মো. আবুল কালাম রনি, মোহাম্মদ আকরাম উজ্জামান (টিটন) এবং মো. সুলতান মিয়া। এর মধ্যে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অনুসারী প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। অবশ্য আওয়ামী লীগ থেকে সমর্থন পেয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সুলতান মিয়া। বিএনপি ও যুবদলের চার জন প্রার্থীর মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন দু’জন। জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে নির্বাচন করছেন একজন। আর স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন দুইজন প্রার্থী। মো. সুলতান মিয়া বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো। একটি আদর্শ ওয়ার্ড গঠন করতে যা প্রয়োজন তার সবগুলো করার চেষ্টা করবো।
বিএনপি’র অনুসারী মুক্তিযোদ্ধা মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনগণের খেদমতে যা করার প্রয়োজন সেগুলো করবো। জাতীয় পার্টির (জাপা) ওয়ার্ড সভাপতি মো. আশ্রাব হোসেন রাসেল বলেন, মুখে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়ার চেয়ে কাজ করার পক্ষেই আমার অবস্থান।
ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদন গাজী মাজহারুল ইসলাম গোফরান বলেন, নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধান করবো।
