যেকোন সময় ফাঁসি হতে পারে কামারুজ্জামানের

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৫, ২১:০৭


মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মুহম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি যে কোন সময় কার্যকর করা হতে পারে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ এজন্য সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর কারাগার ও এর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে 'ইঙ্গিত' দিয়েছেন, কামারুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে 'প্রাণভিক্ষা চাননি'।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “খুব সম্ভব উনি প্রাণভিক্ষা চাননি।”
তবে কবে তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

২০১০ সালের ২৯ জুলাই গ্রেফতার হন কামারুজ্জামান। ওই বছরের ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক দেখানো হয় তাকে। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর প্রসিকিউশনে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। সে বছরের ৫ ডিসেম্বর কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অবিন্যস্ততার কারণে পরবর্তীতে সেটি ফিরিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে আবারো। পরে আনুষ্ঠানিক এ অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে মামলাটি স্থানান্তরিত হয় ট্রাইব্যুনাল-২-এ। গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাত অভিযোগে কামারুজ্জামানের বিচার শুরু হয় ২০১২ সালের ৪ জুন। ২০১৩ সালের ৯ মে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাইব্যুনালের আদেশে মৃত্যুদ- দেয়া হয় তাকে। একই বছরের ৬ জুন তিনি আপিল করলেও সরকারপক্ষ কোন আপিল করেনি। আপিল শুনানি শুরু হয় গত বছরের ৫ জুন। শুনানি শেষে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর রায় অপেক্ষমাণ রাখার পর একই বছরের ৩ নভেম্বর মৃত্যুণ্ড দেন আপিল বিভাগ।
এ বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা। মার্চের প্রথমদিকে রিভিউ আবেদন দাখিলের পর আপিল বিভাগে এর শুনানি হয় ৫ এপ্রিল।  ৬ এপ্রিল আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।