কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করলেন স্বজনরা

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২৮
 
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে কারাগারে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে  শনিবার বিকেলে শেষ দেখা করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
 
দেখা করার পর স্বজনরা বলেছেন, এই যুদ্ধাপরাধীকে সুস্থ এবং ধীরস্থির দেখেছেন তারা। বিকেল ৪টার কিছু সময় পর তারা কারাগারে প্রবেশ করেন। প্রায় সোয়া ঘন্টা পর তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। স্বজনদের মধ্যে তার স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও নাতি-নাতনিসহ ২৩ জন ছিলেন।
 
কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কারাগার থেকে বের হয়ে এসে তার ছেলে হাসান ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (কামারুজ্জামান) ধীর রয়েছেন, সুস্থ রয়েছেন।’ এটাই শেষ সাক্ষাত্ কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট কিছু বলেননি হাসান ইকবাল।
 
এর আগে সকালে এই জামায়াত নেতার স্বজনদের বিকালে সাক্ষাতের সময় দিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। বিকাল ৪টার কিছু পরে দুটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনরা কারাফটকে পৌঁছায়।
 
কামারুজ্জামানের যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে তার ছেলে হাসান ইকবাল বলেন, ‘একাত্তরে ১৮ বছর বয়সী একটা ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে যুদ্ধাপরাধী সাজানো হয়েছে। এর উপযুক্ত জবাব তরুণ প্রজন্ম দেবে।’
 
হাসান ইকবাল বলেন, ‘তিনি আমাদের মাধ্যমে তার নামাজে জানাজা ও দাফন গ্রামের বাড়িতে করতে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। দলের (জামায়াত) লোকজন যেন তাতে অংশ নিতে পারেন, সে অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি। প্রাণভিক্ষা চাওয়া প্রসঙ্গে বাবা বলেছেন, প্রাণের মালিক আল্লাহ। রাষ্ট্রপতি কে যে তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইব?’
 
হাসান ইকবাল জানান, ‘দুপুর ১টা ২২ মিনিটে লাভলু নামের একজন ডেপুটি জেলার আমার আম্মাকে (কামারুজ্জামানের স্ত্রী) ফোন দিয়ে কারাগারে যেতে বলেন। কারাগারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা ছিল, বিকেল চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যেই যেন পরিবারের সদস্যরা কারাগারে পৌঁছান। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়িই এখানে এসেছি।’
 
কামারুজ্জামানের সঙ্গে যারা দেখা করতে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন— স্ত্রী নুরুন্নাহার, ছেলে হাসান ইকবাল ও হাসান ইমাম, মেয়ে আতিয়া নূর, ভাই কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আফিয়া নূর, ভাতিজা আরমান, ভাতিজি আরিফা ও মলি, শ্যালক রুম্মান, ভাগ্নি রোকসানা জেবিন, জিতু, মুন ও মনি এবং বিউটি নামে এক আত্মীয়া। মোট ২৩ জন কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে গেলেও কারা কর্তৃপক্ষ ২০ জনকে দেখা করতে দেয়।
 
ছোটো দুই ছেলের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ হয়নি :
 
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ হয়নি তার ছোটো দুই ছেলের।
 
শনিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটের দিকে তার স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম, বড় ছেলে হাসান ইকবাল ওয়ামী মেজো ছেলে হাসান ইমাম ও একমাত্র মেয়ে (পালিত) আতিয়া নূরসহ পরিবারের ২৩ সদস্য ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান।
 
দু’টি গাড়িতে করে ১৫ জন ও অন্যভাবে ৮ জন সদস্য যান। বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা কারাগারে প্রবেশ করেন।
 
জানা গেছে, কামারুজ্জামানের সেজো ছেলে সুইডেনে লেখাপড়ারত হাসান ইকরাম ও মালয়েশিয়ায় টেলি কমিনিউকেশন পেশায় চাকরিজীবী হাসান জামান দেশে না থাকায় তারা বাবার (কামারুজ্জামান) শেষ সাক্ষাত্ পাচ্ছেন না। বাবার জীবনের শেষ সময়েও তারা দেশে আসেননি। লাশ দাফনের আগে তারা আসবেন কিনা তাও নিশ্চত নয়।
 
IMG0
 
৮ নম্বর সেলে দেখা হলো পরিবারের :
 
 বিকেলে পরিবারের সদস্যরা কামারুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাদের দেখা হয় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮ নম্বর কনডেম সেলে। কারা সূত্র জানায়, কামারুজ্জামানের সঙ্গে শেষ দেখা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার স্ত্রী নুরুন্নাহার। তাকে সান্ত্বনা দেন কামারুজ্জামান নিজেই।
 
কারাসূত্র জানায়, প্রায় এক ঘণ্টা পরিবারের সদস্যরা সেখানে অবস্থান করে। কামারুজ্জামান সেলের ভেতরেই ছিলেন। একটু দূর থেকে সেলের লোহার গরাদের বাইরে থেকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্রেফ দেখতে পান। কামারুজ্জামান তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার জন্য দোয়া করতে বলেন।