নির্বাচিত হলে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ, স্মার্ট, সুশাসিত ও মানবিক উন্নয়নের ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আনিসুল হক।
শনিবার রাজধানীর লোটাস কামাল টাওয়ারে আনিসুল হক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, ‘শহর বিনির্মানে আমাদের দর্শন হচ্ছে ধনী-গরীব সকলের জন্য মানবিক এক ঢাকা, যেখানে নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে সবকিছুর উপরে। তিনি বলেন, ‘আমি নগরীর পিতা নই, নাগরিকদের বন্ধু হতে চাই।’
মেয়র হলে নগরভবনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে আনিসুল হক বলেন, ‘পেশিশক্তি, মাস্তানি, অনৈতিক প্রভাববলয় থেকে সিটি করপোরেশনকে মুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
ইশতেহারে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তিনি ঢাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের উপায় তুলে ধরেন। এটিকে তিনি ‘এবারের সমাধানযাত্রা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, পরিবহন, স্বাস্থ্য ও বিনোদন সমস্যা চিহ্নিত করেন। পরে এসব সমস্যার সমাধান কী হবে তা দেখান।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতি জানান, বিশেষ একটি ওয়েবসাইটে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেদের এলাকার সমস্যা তাঁকে জানাতে পারবেন। মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলে সেসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। তিনি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াাদি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
আনিসুল হক বলেন, ‘আইনে ২৮ ধরনের কাজ নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও মেয়রের আইনি কর্তৃত্বের অভাব আছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে মেয়রকে সরকারের ৫৬টি সংস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। সংস্থাগুলোর মধ্যে সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘ফরমালিনমুক্ত বাজার, মাদক ও সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ, নারীসহ সবার জন্য পর্যাপ্ত আধুনিক পাবলিক টয়লেট স্থাপন, নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের নারী পুরুষ ও বস্তিবাসী মানুষের সেবার আওতা বাড়ানো, গণপরিবহন ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার, নারীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাস, সড়ক সংস্কার ও ফুটপাত প্রশস্ত করে গাছ লাগানো, কমিউনিটি ট্রাফিক প্রচলন, প্রতিটি জোনে সুনির্দিষ্ট পার্কিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স নির্মাণে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে টাকা খুব বেশি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারবে না। কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যদি সিটি গভর্ননেন্সের প্রয়োজন পড়ে, সেটার প্রস্তাবও পরবর্তীতে ভেবে দেখা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য নির্দিষ্ট। পরিকল্পনা স্বচ্ছ। কীভাবে প্রতিকূলতা পরাস্ত করে সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হয় তা আমি জানি। জীবন থেকে অর্জিত সব অভিজ্ঞতা আমি সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই।’
ইশতেহার ঘোষণাকালে ফারুক খান এমপি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, আসলামুল হক এমপি, ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মান্নান কচি, তারানা হালিম, আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
