রাতেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৫, ২১:৪৭
 
মানবতা বিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।  বিকালে শেষ বারের মতো কামারুজ্জামান তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন।  সন্ধ্যার পর আইজি প্রিজন, সিভিল সার্জন, লালবাগ জোনের ডিসি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেছেন।  
 
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করা সংক্রান্ত ফাইল প্রস্তুত হয়েছে। শনিবার রাতে তার ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।
 
কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, কামারুজ্জামানেরর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জনের পক্ষে একজন চিকিত্সক কারাগারে এসেছেন। সব আয়োজন চূড়ান্ত করা হয়েছে। কারাগারে ৯ জন অস্ত্রধারী কারারক্ষীকেও প্রবেশ করানো হয়েছে। 
 
ফাঁসির মঞ্চে আশেপাশে প্রতিনিধিদের বসার জন্য চেয়ার রাখা হয়েছিল। ফাঁসির মঞ্চও প্রস্তুত। ৫ সদস্যের জল্লাদ বাহিনী মঞ্চে অবস্থান নেয়। 
 
শনিবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও এর আশপাশে হঠাৎ করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। 
 
 আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের লালবাগ বিভাগীয় উপকমিশনার মফিজ উদ্দিন জানান, ওপরের নির্দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 
 
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগ থেকে কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে। 
 
এরপর থেকে গত ৪ দিন ধরে চলে প্রাণভিক্ষার আবেদন আদৌ করবেন কিনা। এ নিয়ে কামারুজ্জামানের ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি তার আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। আইনজীবীদের সাক্ষাৎ করার পরও তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষমা জাবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন।
 
যে মঞ্চে ফাঁসি :ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পূর্ব-পশ্চিম কোনার দিকে ফাঁসির মূল মঞ্চ। এর দৈর্ঘ্য আট ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে চারফুট। ভূমি থেকে উঁচুতে এই মঞ্চে পাশাপাশি দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যবস্থা রয়েছে। মঞ্চের উপরে যে ফাঁসির কাষ্ঠ তার উচ্চতা আট ফুট। আর মঞ্চ থেকে নিচের দিকে বার ফুট গভীর গর্ত আছে। সেই গর্ত কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢাকা।
 
তবে মূল মঞ্চসহ পুরো ফাঁসির মঞ্চটি আরও বড়। মূল মঞ্চের পূর্ব দিকে ৩টি কনডেম সেল। দক্ষিণে একটি লম্বা টেবিল, যার পাশে ১০ জন বসতে পারেন। তার সামনে আরেকটি টেবিল যাতে ফাঁসি কার্যকর করার পর প্রথম মৃতদেহ রাখা হয়। আর পশ্চিমে ১০ জন সশস্ত্র পাহারাদার। যাদের সবার হাতে থাকে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র।