জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতার ফাঁসি কার্যকর

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২৬
 
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দু’জন শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর করেছে সরকার। তারা হলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এম কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম ফাঁসি কার্যকর করা হয় কাদের মোল্লার।
 
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শেরপুরের সোহাগপুর গ্রামে ১৪৪ জনকে হত্যা ও নারী ধর্ষণের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামারুজ্জামানের ফাঁসি গতকাল শনিবার কার্যকর করা হয়। এছাড়া জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া এই রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তারা আপিল করেছেন। মুজাহিদের আপিল শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দৈনন্দিন কার্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আপিল বিভাগ দিন ধার্য করে দিলেই মুজাহিদের আপিলের ওপর শুনানি শুরু হবে।
 
এদিকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর ১৭টি মামলায় ১৮ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী, এটিএম আজহারুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, নগরকান্দা পৌরসভা সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা জাহিদ হোসেন খোকন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোবারক হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এছাড়া পলাতক আব্দুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। তবে বয়স বিবেচনায় জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে দণ্ড মাথায় নিয়ে গোলাম আযম মৃত্যুবরণ করে। ট্রাইব্যুনালের ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলেও মৃত্যুবরণ করায় আপিল বিভাগ তা অকার্যকর ঘোষণা করে।
 
এছাড়া ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, আবুল কালাম আযাদ, মীর কাসেম আলী, এম কামারুজ্জামান, আব্দুস সুবহান, আশরাফুজ্জামন খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মো. কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ট্রাইব্যুনাল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও আপিল বিভাগ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে তার ফাঁসি কার্যকর করে সরকার।