যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রো শনিবার বৈঠক করেছেন। এ বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রায় ৬০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলা শত্রুতা পেছনে ফেলে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতা।
বৈঠকটিকে ‘ঐতিহাসিক’ অভিহিত করে ওবামা বলেছেন, শীতল যুদ্ধকালীন শত্রুতার যবনিকা টানতে পারে দেশ দুটি। তবে কমিউনিস্ট শাসিত দেশটিকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের বিষয়ে সব সময় চাপ প্রয়োগ করে যাবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
পানামায় আমেরিকার শীর্ষ নেতাদের সম্মলনের বিরতিতে বারাক ওবামা ও রাউল কাস্ত্রো এই বৈঠক করেছেন।
বৈঠকে ওবামা রাউলকে বলেছেন, আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছি।
বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা স্বীকার করেছেন, দুই দেশের মধ্যে এখনও বিস্তর ব্যবধান রয়েছে।
তিনি বলেছেন, সমাজ কীভাবে গঠিত হওয়া উচিত সে বিষয়ে আমাদের খুব আলাদা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে, কিন্তু আমি তাকে (রাউল কাস্ত্রো) সরাসরি বলেছি, আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সমাবেশ করার স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা বন্ধ করব না।
গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো টেলিফোন আলাপে এই দুই নেতা দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে একমত হন। আলাপে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করার বিষয়টিও ছিল। ১৯৬১ সালে কিউবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে রাউল কাস্ত্রো বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। মানবাধিকার বিষয় ও অন্যান্য ইস্যুতে আমার আলোচনা করতে রাজি আছি।
তিনি বলেছেন, আমার সবকিছ আমরা সবকিছু নিয়ে আলোচনা করতে রাজি আছি। তবে আমাদের ধৈর্য্য ধরতে হবে, অনেক ধৈর্য্য ধরতে হবে। কিছু বিষয়ে আমরা একমত হতে পারি, অন্যান্য বিষয়ে দ্বিমত হতে পারে।
