বিধবাপল্লীতে স্বস্তি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৩০
 
১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই। এই দিন ভোরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের পরিকল্পনা ও পরামর্শে রাজাকার, আলবদরসহ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি উপজেলার সোহাগপুর গ্রাম ঘিরে ফেলে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষদের ধরে এনে হত্যা করে। এই দিন ওই এলাকার মোট ১৪৪ জন পুরুষকে হত্যা করা হয়। এ সময় ধর্ষণের শিকার হন গ্রামটির অসংখ্য নারী। ওই ঘটনার দিন থেকে সোহাগপুর গ্রাম ‘বিধবাপল্লী’ নামে পরিচিতি পায়।
 
কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার খবর শুনে এই গ্রামের মানুষের মনে স্বস্তি নেমে আসে। ইত্তেফাকের নালিতাবাড়ি প্রতিনিধি হামিদুল ইসলামের সঙ্গে গতকাল রাতে কথা হয় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও সোহাগপুর পল্লী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দীনের। তিনি জানান, ‘স্বাধীনতার ৪৫ বছরে এসে আমাদের মনের বাসনা পূর্ণ হয়েছে। এতোদিন আমরা এমন দিনের অপেক্ষায় ছিলাম। সোহাগপুরের গণহত্যার তালিকায় আমার বাবা-ভাইসহ পরিবারের ৭ জন রয়েছেন। এতে সকল শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।’
 
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বজনদের হারিয়েছি। তাদের হয়ত আর খুঁজে পাবো না। এই ক্ষতি পোষাণোর ব্যবস্থা নেই। তবে কামারুজ্জামানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে। আমরা খুশি। আরেক বার প্রমাণিত হলো অপরাধী কখনো পার পেতে পারে না। একদিন না একদিন অপরাধের শাস্তি পেতেই হয়।
 
এদিকে প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সোহাগপুরে স্যাটেলাইট চ্যানেলের ব্যবস্থা নেই। রাতে দেখা গেল, এলাকার আব্দুল খালেকের মুদি দোকানে স্যাটেলাইটের ব্যবস্থা করে সবাই মিলে টেলিভিশনে কামারুজ্জামানের ফাঁসির সর্বশেষ খবর জানার চেষ্টা করছেন।