ফাঁসি বিলম্ব যে কারণে

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৩৫
 
সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পরও শুক্রবার আটকে যায় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির কার্যক্রম। কারণ কারাগারে ফাঁসির প্রস্তুতি বৈঠকে তখন তিনটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এগুলো হলো: তখন পর্যন্ত ফাঁসির আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মেলেনি। স্বজনদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের বিষয়টিও সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া শুক্রবার ফাঁসি দিলে-এ নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কথা উঠতে পারে। মূলত এই তিন কারণেই শুক্রবার মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে  জানা গেছে।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কামারুজ্জামানের প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে ফাঁসির কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাতে কারা কর্তৃপক্ষ তার কাছ থেকে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা-এ ব্যাপারে মতামত জানতে চায়। কামারুজ্জামান আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে জানান। প্রথম দফায় আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার পরও কামারুজ্জামান প্রাণভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে কালক্ষেপণ করেন। এরপর আবারও তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ দফায় তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদনের ব্যাপারে আরো একটু চিন্তা-ভাবনা করার জন্য সময় চান। যে কারণে বৃহস্পতিবার রাতে এ ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
 
সর্বশেষ শুক্রবার রাতে ফাঁসি কার্যকর করার আগে কামারুজ্জামান তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার রাতে ফাঁসি কার্যকর করা থেকে পিছিয়ে আসে। কারাগারের একজন কর্মকর্তা জানান, ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শুক্রবার সপ্তাহের বিশেষ দিন হওয়ায় ঐ দিন ফাঁসি কার্যকর করা হবে না-এমন সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে কামারুজ্জামান তার শেষ ইচ্ছা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানালে আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবার ফাঁসি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।