ইরাকে পাচার বাংলাদেশিদের ওপর চলছে বর্বর নির্যাতন

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৫, ১৬:৩৬

‘আমরা ১৮০ জন একটি ঘরেই ছিলাম। ইরাকের নাজাফ শহরের একটি বদ্ধ ঘরে আমাদের আটকে রাখা হয়। সকাল, বিকাল ও রাতে পাইপ ও লোহার রড দিয়ে আমাদের পেটানো হতো। অনেকের ওপর যৌন নির্যাতনও চালানো হয়। কাউকেই ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না; দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেয়া হতো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে বহুতল ভবনের ওপর উঠে কাজ করানো হতো। ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানির লোক ছাড়াও ভাড়া করা ইরাকি সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালায়।’—সম্প্রতি ইরাক থেকে পালিয়ে দেশে এসে এভাবেই বাংলাদেশিদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক।

 

গতকাল শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক জানান, শ্রম রপ্তানির নামে বাংলাদেশের কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে মানুষ কেনাবেচার হাটে বাংলাদেশিদের বিক্রি করছে। দাস হিসাবে বাংলাদেশিদের কিনে ইরাকিরা চালাচ্ছে নারকীয় নির্যাতন।
 
রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লিমিটেড গত বছরের ২২ মে এই ১৮০ জন বাংলাদেশিকে ইরাকে নিয়ে যায়। বন্দীদশা থেকে পালিয়ে ইরাকে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তায় গত ৪ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানি বিদেশে মানব পাচার করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যেখানে কাজের কোনো সুযোগ নেই, যে দেশটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত এবং যেখানে বিদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নের সম্মুখীন সেই দেশে মানুষ পাঠানোর নির্দেশনা কীভাবে ক্যারিয়ারকে দেয়া হলো?
 
সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য চুক্তি করেছিল ক্যারিয়ার। কিন্তু কোনো কিছু বুঝতে না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করে আমাদের ইরাকে নিয়ে যায়। ক্যারিয়ারের এই অবৈধ কাজে সহযোগিতা করেছে ইরাকস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধানসহ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। তিনি আরও জানান, ইরাকে পাচারের শিকার ১৮০ জনের মধ্যে তিনিই পালিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন। আরও ১১ জন পালালেও তারা দেশে আসেনি। আর বাকিরা এখনও ইরাকে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
 
ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক মানব পাচারের দায়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লিমিটেড  এবং তাদের সহযোগীদের শাস্তি, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। একই সাথে যারা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তাদের সতর্কতার সাথে এগোনোরও পরামর্শ দেন তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে সিদ্দিকের ভাই মো. জাভেদ এবং মানবাধিকার কর্মী সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রসঙ্গত এর আগে  ইরাকে পাচার ব্যক্তিদের স্বজনরা দেশের বিভিন্ন থানায় ক্যারিয়ার ওভারসিসের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছিল।