দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও নার্স নিয়োগবিধি হয়নি ৬ বছরেও

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১১:২৭

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতা আসার পর পরই এন্ট্রি পয়েন্টে সিনিয়র স্টাফ নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। সেই ঘোষণার পর কর্মরত নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসাবে আত্তীকরণ করা হয়। কিন্তু নতুন নিয়োগ নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা। নিয়মানুযায়ী এন্ট্রি পয়েন্টে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি)। এ জন্য নিয়োগ বিধিমালাও অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু সেই নিয়োগ বিধিমালা ৬ বছরেও করতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরে এক জনসভায় আরও ১০ হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এই নিয়োগ কিভাবে হবে তা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ‘নিয়োগবিধি দ্রুত করা হবে। এটা নিয়ে কোন ধরনের অবহেলা মেনে নেয়া হবে না।’
 
সেবা পরিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার পর নিয়োগবিধি ছাড়াই দুই দফায় ৫ হাজার ৮৪৭ জন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগ শূন্যপদে এবং এডহক ভিত্তিতে দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যে জড়িত কতিপয় কর্মকর্তার কারণে নার্স নিয়োগ বিধিমালা তৈরি করা হচ্ছে না। সেবা পরিদফতর থেকে প্রস্তাবের পর প্রস্তাব পাঠানো হলেও বিধিমালা তৈরির কাজ শুরুই করা হয়নি। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি খসড়া বিধিমালা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তা-ও দুই বছর ধরে ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।
 
সেবা পরিদফতরের দুই নার্সিং কর্মকর্তা এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নার্সিং বিভাগের মতো এত অব্যবস্থাপনা সরকারের আর কোন প্রশাসনে নেই। সেবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি দায়িত্বে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার (প্রথম শ্রেণির) পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। শুরুতে যে (সিনিয়র স্টাফ নার্স) পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন সেই পদে থেকেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন অনেকে। তারা অভিযোগ করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা শুধু বাণিজ্য করার জন্যই সেবা পরিদফতরকে এমন করে রেখেছেন। তারা জানান, পিএইচডি, এমপিএইচ, মাস্টারস ইন নার্সিংসহ নানা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েও পদমর্যাদা পাননি সহস াধিক নার্স। তারাও চলতি দায়িত্বে সেবা পরিদফতর ও ৭টি নার্সিং কলেজসহ বিভিন্ন চিকিত্সা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। নিয়োগবিধি না থাকার কারণেই উচ্চতর ডিগ্রিধারী নার্সরা সিনিয়র স্টাফ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছেন বহু বছর ধরে। তাদের অনেকের চাকরিই এখন শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে।
 
জানা গেছে, বর্তমানে সেবা পরিদফতরে কোন পরিচালক নেই। সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সুরাইয়া বেগম অবসর নেয়ার পর একই পরিদফতরের উপ-পরিচালক (শিক্ষা) নিলুফার ফরহাদ ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শুধু আর্থিক বিষয়ে সই করতে পারেন, কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা তাকে দেয়া হয়নি। এ ক্ষমতা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার হাতে। 
 
পরিদফতরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ১৯৯২ সালের পর থেকে সেবা পরিদফতরের পরিচালকের স্থায়ী পদে কোন কর্মকর্তা নিয়োগ পাননি। শুধু ভারপ্রাপ্ত কিংবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে গেছেন। আর এ কারণে মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য করার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, নার্সিং পেশার যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা এই সরকারের আমলেই হয়েছে।

 

এদিকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রয়েছে তীব্র নার্স সংকট। শূন্যই রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার পদ। অথচ প্রায় ৮ হাজার নার্স বেকার রয়েছেন। এছাড়া আরও ১৫ হাজার ৫শ’ নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আরও ১০ হাজার নার্স দ্রুত নিয়োগ দেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নার্সিং কর্মকর্তারা।