আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিচারক নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েও শেষ মুহূর্তে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে এলো। আগামী ২৪ ও ২৫ জুন নেদারল্যান্ডসের হেগে অনুষ্ঠিত অ্যাসেম্বলি অব পার্টিস-এর বিশেষ সভায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খাইরুল হককে মনোনীত করা হয়। জমা দেয়া হয় আবেদন পত্রও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার চান তিনি।
আন্তর্জাতিক আদালতে মোট ১২৩ ভোটার। এতে একজন বিচারককে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হয়। নির্বাচনের জন্য প্রচারণা কার্যক্রম শুরুও করেছিল বাংলাদেশ। ইতিবাচক সাড়াও মিলেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি পদের বিপরীতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল জর্ডান এবং ফিলিপাইন। গত বছর ফিলিপিনো বিচারক মিরিয়াম ডিফেন্সর সান্টিয়াগো পদত্যাগ করায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে তিনি ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে ৩ বছর কাজ করেন সান্টিয়াগো।
এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রথমবারের মত এই পদে প্রার্থী দেওয়ায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেকটাই উজ্জ্বল ছিল। এছাড়া বিপক্ষের অপর দুটি দেশের মধ্যে ফিলিপাইনের অবস্থান কিছুটা নড়বড়েও ছিল। কারণ পদত্যাগ করা বিচারক মিরিয়াম ডিফেন্সর সান্টিয়াগো ছিলেন ফিলিপিনো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মোট ১৮ জন বিচারক আছেন। গত বছর ডিসেম্বর মাসে নিউইয়র্কে ছয় জন বিচারক নির্বাচিত হন এবং এর জন্য ২২ রাউন্ড ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল। নতুন বিচারক ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন।
