চৈত্র সংক্রান্তি আজ

রাত পোহালেই নতুন বছর

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ১১:৫৫

 

‘জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক, মুছে যাক গ্লানি...’ বিদায়ী সূর্যের সাথে এ প্রার্থনা জানাবে আজ বাঙালি। রাত পোহালেই নতুন দিন। পূর্বদিগন্ত উদ্ভাসিত করে ভোরের নরম আলো রাঙিয়ে দেবে চরাচর, স্বপ্ন, প্রত্যাশা। নব সম্ভাবনায় সূচিত হবে নববর্ষ।

বাংলা সনের সমাপনী মাস চৈত্রের এ শেষ দিনটি বাঙালির লৌকিক আচারের ‘চৈত্র সংক্রান্তি’। আজ ৩০ চৈত্র ১৪২১। বাংলা সনে বছরের শেষদিন।

প্রকৃতির আকুল করা ফাগুন, চৈতালী হাওয়ায় উতল-উদাস করা যে বসন্ত তারও বিদায় আজ। বসন্ত মুখর হয়ে উঠেছিল তরুলতা, বিটপী আর বনস্পতিতে। এবারে ঋতুরাজ বসন্তের বড়ভাগ জুড়েই ছিল খরতাপ। তপ্ত দিনলিপিতে এবার বৃষ্টির শান্ত-শীতল পরশও জুটেছিল জনজীবনে। ঝড়-ঝঞ্ঝাও বাদ যায়নি।

সনাতনধর্মীদের কাছে চৈত্র সংক্রান্তি বিশেষ লোক উত্সব। নানা আচার-অনুষ্ঠান আর হালখাতার প্রস্তুতি নিতে এদিনকে বেছে নিয়েছেন তারা। চৈত্র সংক্রান্তি বাংলার লোক সংস্কৃতির এমন এক অনুষঙ্গ যা সর্বজনীন উত্সবের আমেজে বর্ণিল। দেশজুড়ে চলছে মেলা, উত্সব।

হালখাতার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, আবৃত্তি, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় সংক্রান্তি। এ দিনে বিদায় উত্সব পালন করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে বিগত বছরের যত সব জঞ্জাল বিদূরিত করা হয়। পরদিনই খোলা হবে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন খাতা। উত্সবের লোকায়ত নাম ‘হালখাতা’। সারা বছরের খরিদ্দারদের কাছে বকেয়া টাকা তুলতে বছরের এই দিনটিকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার রেওয়াজ বহু পুরনো।

সনাতন হিন্দু ধর্মীয় মতে, বাংলা মাসের শেষ দিনে শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়।

গত দুই দশকে কর্পোরেট বাণিজ্য এবং আমাদের যে কোনো বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত আদিখ্যেতার জোয়ারে হারিয়ে গেছে গ্রামবাংলার পহেলা বৈশাখ— জন্ম নিয়েছে নতুন এক হাইব্রিড পহেলা বৈশাখ, যেখানে হাজার টাকায় পান্তা-ইলিশ খাওয়া হয়, বৈশাখী কনসার্ট আয়োজন করা হয়, বৈশাখী ডিজে পার্টি, বৈশাখী ফ্যাশন শো হয়। রাজধানীতে এবারের আয়োজন ডালায় কনসার্ট আর ডিজে পার্টিই বেশি।

চৈত্র সংক্রান্তির উত্সবের ভিতর নতুন বছর ১৪২২-কে স্বাগত জানাতে এখন উন্মুখ বাঙালি। বৈশাখকে বরণ করার জন্য চলছে সাজগোজ আর ধোয়ামোছা। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসছে বৈশাখীমেলা। লাল মলাটের হালখাতা নিয়ে নতুন বছরের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা।

বাংলা নববর্ষকে বরণের জন্য রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রধান আয়োজন ছায়ানটের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। রমনা বটমূলে গতকাল শেষ হয়েছে মঞ্চ নির্মাণ। শুরু হয়েছে মঞ্চ সাজানো। গত মাস থেকে চলছিল ছায়ানটের মহড়া। গতকাল ছায়ানট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে চূড়ান্ত মহড়া। অনুষ্ঠানের সব গ্রুপ গতকাল একসঙ্গে মহড়ায় অংশ নেয়।

পহেলা বৈশাখের অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রা।