নান্দাইল উপজেলার শিমুলাটিয়া গ্রামের দুলাল মিয়া (৫০) নামে এক বর্গা চাষি বাজার থেকে মেসতা জাতের ভারতীয় পাটবীজ কিনে জমিতে লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বীজ বপনের ৩৬ দিনের মাথায় দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু পাট গাছে নতুন বীজ ধরেছে। এর ফলে থেমে গেছে পাট গাছের বৃদ্ধি।
কৃষক দুলাল বলেন, ৯০ হাজার টাকায় ৩০ শতক জমি তিনি বর্গা নিয়েছেন। বিনিয়োগ করা অর্থের একটি অংশ তুলে নেয়ার জন্যে চলতি মওসুমে মেসতা জাতের পাট আবাদ করেন। বীজ কেনেন নান্দাইল পৌরশহরের মো. তফাজ্জল মিয়া নামে তার পরিচিত এক বীজ বিক্রেতার দোকান থেকে। জমি আবাদে তার খরচ হয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওই জমি থেকে প্রায় ১০ মণ পাট উত্পাদন হতো। গত বছরের বাজারদর হিসেবে ১০ মণ পাটের মূল্য হতো প্রায় ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু বীজ লাগানোর ৩৬ দিনের মাথায় দুলালের সব আশা ধূলিসাত্ হয়ে গেছে।
ওই গ্রামের প্রবীণ কৃষক মুসলেম উদ্দিন (৬৫) বলেন, বীজ পুরনো হলে ফলন এরকম হতে পারে। বীজের খালি প্যাকেটটি হাতে নিয়ে দেখা যায় বীজের উত্পাদক হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার পাল নার্সারীর নাম লেখা রয়েছে। তবে কোনো পরিবেশক বা আমদানিকারকের নাম লেখা নেই।
গতকাল রবিবার দুপুরে খোঁজ নিলে বিক্রেতা তফাজ্জল মিয়ার দোকানটি বন্ধ পাওয়া যায়। ওই এলাকা ঘুরে দেখা যায়, তিন-চারটি দোকানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বীজ বিক্রি হচ্ছে। মো. হাদিস মিয়া নামে এক বীজ বিক্রেতার কাছে ঐ বীজ বিক্রির অনুমোদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বৈধভাবে এসব বীজ বিক্রি করছেন বলে জানান। তবে অনুমোদনপত্র দেখাতে তিনি রাজি হননি।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, বীজের উত্পাদন ও বিক্রির অনুমোদন কৃষি মন্ত্রণালয় দেয়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) লাইসেন্স দেয় খুচরা বিক্রেতাকে। এসব বিক্রেতার বীজ আগমনী বার্তা (অ্যারাইভাল রিপোর্ট) তার কার্যালয়ে পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।
বর্গাচাষি দুলাল মিয়ার প্রতারিত হওয়া সম্পর্কে ঐ কৃষি কর্মকর্তা বলেন, নির্দিষ্ট সময় আগে ও পরে জমিতে বীজ বপন করলে দিনের আলোর হেরফের হওয়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বপন করলে এই সমস্যা হতে পারে। কৃষকদের স্বার্থ দেখার জন্যে তিনি অননুমোদিত বীজ বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
