মির্জা আব্বাসের জামিন আবেদনের ওপর আদেশ বুধবার

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ২১:৫৩
 
গাড়ি পোড়ানোর দুটি মামলায় বুধবার পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী মির্জা আব্বাসকে বাসায় অবস্থান করার সুযোগ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে এ সময়ের মধ্যে তাকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত জামিন আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন। এছাড়া বুধবার জামিন আবেদনের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেয় আদালত।
 
জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে অংশ নিয়ে মির্জা আব্বাসের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত গ্রেফতার বা হয়রানি না করার বিষয়ে আদালতের কাছে আদেশ প্রার্থনা করেন। এর বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া ঠিক হবে না। জামিন আবেদনকারী তার নিজ দায়িত্বে থাকুক। আদালত বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে তো আমরা গ্রেফতার না করার জন্য আদেশ দিয়ে থাকি। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত গ্রেফতার না করার বিষয়ে নির্দেশনা দিলে আবেদনকারী নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেবেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আবেদনের ওপর আদেশ না দেয়া পর্যন্ত মির্জা আব্বাস কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ গ্রহণ এবং গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে পারবেন না। তিনি বাসায় যেতে পারবেন এবং বাসা থেকে আদেশের দিন আদালতে আসবেন।
 
আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, আদালত দুটি মামলায় বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। এ সময়ের মধ্যে পুলিশ মির্জা আব্বাসকে গ্রেফতার করবে না।
 
গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে গত ২৯ ডিসেম্বর পল্টন থানায় এবং ৫ জানুয়ারি মতিঝিল থানায় দুটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। এছাড়া প্লট বরাদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই তিনটি মামলায় হাইকোর্টে আত্নসমর্পণ করে জামিন চান মির্জা আব্বাস। তার পক্ষে শুনানিতে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, মির্জা আব্বাস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী। নির্বাচনে ভোট চাইতে তাকে সশরীরে ভোটারদের কাছে যেতে হবে। এজন্য দুই সপ্তাহের জামিন প্রয়োজন। আদালত শর্তাসাপেক্ষে জামিন দিতে পারে। প্রয়োজনে আবেদনকারী তার পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা রাখতে রাজি আছেন। তিনি বলেন, গাড়ি পোড়ানোর দুটি মামলায় মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে সুনির্দ্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই।
 

জামিনের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়াটা মৌলিক অধিকার নয়। বৃটিশ ও পাকিস্তান আমলে অনেক প্রার্থী জেলে গিয়ে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছেন। কারণ গত কয়েক মাসে পেট্রলবোমা হামলা ও নাশকতার ঘটনায় শতাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং অনেকে আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। পারিপার্শ্বিক এ অবস্থার বিষয়টি আদালতকে বিবেচনায় নিতে হবে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা তো দুটি মামলার উপর শুনানি গ্রহণ করছি। এখানে তো কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শুধু এ দুটি কেন এ ধরনের অনেক ঘটনায় রাষ্ট্রের হাজারো কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এগুলো আদালতকে নোটিশে নিতে হবে। এছাড়া গত ৩ ডিসেম্বর পরিবাগে একটি গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় মির্জা আব্বাস জামিন পেলেও আপিল বিভাগ তা বাতিল করে দেয়। ফলে এ দুটি মামলায় জামিন দেয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের অন্তবর্তিকালীন জামিনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মামলায় আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। সেগুলো অনুসরণ করলে আবেদনকারী জামিন পেতে পারেন না। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দেয়।