ডিসিসি নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েনের দাবি সুজনের

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ২০:৪৫
 
ডিসিসি নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েনের দাবি জারিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।  সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
 
সংগঠনটি জানায়, আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র এবং কাউন্সিল পদপ্রার্থীদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশ আর ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এই সংখ্যা ৭১ দশমিক ২৮ শতাংশ। ঢাকা উত্তরে প্রায় ৪৮ শতাংশ প্রার্থী এবং দক্ষিণে প্রায় ৫৩ শতাংশ প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিকের নিচে।
 
সংগঠনটি আরো জানায়, ঢাকা উত্তরে প্রায় ২০ শতাংশ ও দক্ষিণে প্রায় ২১ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে। এর মধ্যে উভয় সিটিতে হত্যা মামলা আছে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৪৯ ও ৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রার্থীর বিরুদ্ধে।
 
মনোনয়ন বৈধ হওয়া প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে   প্রার্থীদের আয়, সম্পদ, ঋণ ও কর প্রদানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে সংগঠনটি।
 
 
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন সুজনের সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, নির্বাহী সদস্য ড.হামিদা হোসেন ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
 
তথ্য বিশ্লেষণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের জেনে শুনে ও বাজিয়ে ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারেন, এ জন্যই এটা করা হয়েছে।
 
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন তার অবাধ ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে পরাজিতরা আন্দোলনে নামতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নির্বাচনের আগে সেনা মোতায়েন করার পক্ষে মত প্রকাশ করেন তিনি।
 
সংবাদ সম্মেলনে সকল প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, আচরণবিধি ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিল, নির্বাচনে টাকার অবাধ ব্যবহার ও পেশিশক্তির দৌরাত্ব বন্ধ এবং ভোট প্রদানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে পূর্ব থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়।
 
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, একাধিক মেয়রপ্রার্থীর আয় ও সম্পদের চেয়ে ঋণ অনেক বেশি। তাহলে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের মতো এত বিশাল ব্যয়ের টাকা কোথায় থেকে আসবে। এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব প্রার্থীর মনস্তাত্ত্বিক সততার অভাব রয়েছে।