খালেদার কোমরে জোর আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৫, ২১:৫৩
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কোমরে গণতান্ত্রিক সরকার হঠানোর সেই জোর আর কোন দিন হবে না। ভবিষ্যতে আর কখনো সরকার পতন ঘটানোর কথা তারা ভাবতেই পারবে না। খালেদা জিয়া যেহেতু পারেননি ভবিষ্যতে অন্য কেউও গণতান্ত্রিক সরকার হঠাতে পারবে না।
 
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে নাটোর, ফেনী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা উন্নয়ন কমিটি এবং রাজশাহীর বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে তিন মাস ধরে নাশকতা চালিয়ে বিএনপি কেবলই শক্তিক্ষয় করেছে, কোন কিছুই অর্জন করতে পারেনি। উনাকে (খালেদা জিয়া) কোর্টে সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করতে হয়েছে, আবার ঘরেও ফিরেছেন। তাহলে ৯২ দিন পার্টি অফিসে ছিলেন কেন? আন্দোলনের নামে যারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
 
গত ৫ জানুয়ারি থেকে তিন মাস ধরে বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতালে নাশকতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সম্পদ ধ্বংস করে এবং নারী, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাসহ দেড় শতাধিক সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিএনপি-জামায়াত মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। মানুষ খুন করে তারা কী অর্জন করেছে? আওয়ামী লীগ তো বহাল তবিয়তেই আছে।
 
তিনি বলেন, দেশের মানুষকে প্রতিপক্ষ করে কোনো রাজনৈতিক নেতা এভাবে মানুষ খুন করতে পারে এটা আমি ভাবতেই পারি না। রাজনীতি যদি জনগণের স্বার্থে হয়, জনগণের কল্যাণে হয় তাহলে জনগণকে কেন হত্যা করা হয়েছে? জনগণের প্রতি ন্যুনতম ভালবাসা থাকলে কোন রাজনীতিক এ ধরনের নৃশংস কাজ করতে পারতেন না।
 
শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের কর্মকান্ডের কথা আমি তো ভাবতেই পারি না। কারণ আমাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড জনগণের স্বার্থে।
 
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। খালেদা জিয়া সরকারের পতন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ বিএনপি নেত্রীর কর্মকানে জগণের কোন সমর্থন ছিল না। দেশের মানুষ শান্তি চায়। এজন্য জনজীবনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারীদের শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও দেশজুড়ে উত্সবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ পালিত হবে। আগামীতে এ উত্সব আরো ভালভাবে পালনে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তব। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তৃণমূল প্রশাসনের সাথে কথা বলতে পারা তারই একটি দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশের দ্রুত অগ্রগতি। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
 
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেকসহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।