পহেলা বৈশাখের যত আয়োজন

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৫, ১০:১৭


পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নানা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া দিনব্যাপী রমনা পার্ক, শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রবীন্দ্র সরোবরসহ ঢাকা ও এর আশেপাশে বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। একইসঙ্গে চলবে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার ধুম।

ছায়ানট

সোয়া ছয়টায় সেতারে সুর-মূর্ছনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারকার আনুষ্ঠানিকতা। এবার ছায়ানট প্রখ্যাত পণ্ডিত রবি শংকরের সৃষ্ট রাগ ‘পরমেশ্বরী’ আলাপ জোড় পরিবেশন করবেন এবাদুল হক সৈকত। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘শান্তি, মানবতা, মানুষের অধিকার’। এই প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে আয়োজনটি। গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও সুখীসমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ও থাকবে এই আয়োজনে। তাই এবারকার আয়োজনে আবৃত্তি করা হবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সুহূদ অভিনেত্রী শাবানা আজমীর বাবা কবি কাইফি আজমীর একটি কবিতা। সবশেষে ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন বক্তৃতা করবেন। ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশ ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড।

মঙ্গল শোভাযাত্রা

চারুকলার শিক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে নয়টায় বের করবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে- ‘অনেক আলো জ্বালতে হবে মনের অন্ধকারে’। এ প্রসঙ্গে চারুকলার ডিন শিল্পী নেসার আহমেদ বলেন, ধর্মান্ধরা আমাদের যেভাবে আঁকড়ে ধরছে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষের মাঝে তার স্বরূপ তুলে ধরতেই এবার মঙ্গল শোভাযাত্রায় ২৫ ফুট উচু ‘হাতের পাঞ্জা’র একটি ভাস্কর্য স্থান পাচ্ছে। মৌলবাদী শক্তি যেভাবে অসাম্প্রদায়িক নিরীহ সাধারণ মানুষের গলা টিপে ধরছে, তা তুলে ধরা হয়েছে এ ভাস্কর্যের মাধ্যমে। মঙ্গল শোভাযাত্রায় ২৮ ফুট উঁচু টেপা পুতুল থাকবে, যার এক কোলে কলসি ও অন্য কোলে দেখা যাবে এক শিশু।

 


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বাংলা বিভাগে বর্ষবরণ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় কলা ভবনের সামনে থেকে সবুজ চত্বরে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হবে।
বাংলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামালের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং এমিরিটাস অধ্যাপক ও বাংলা অ্যালামনাই-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।


শিল্পকলা একাডেমি

শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বর্ষবরণ আয়োজনে থাকছে বাউল গান, রায়বেশে নৃত্য, সঙযাত্রা, ধামাইল, যাত্রাপালা, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও ১০টি নাটকের দলের কোরিওগ্রাফি।

বাংলা একাডেমি

বাংলা একাডেমিতে শুরু হবে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। নজরুল মঞ্চে সকাল সাড়ে ৭টায় বর্ষবরণ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ আয়োজন। একাডেমি প্রাঙ্গণে কারুশিল্প মেলার আয়োজন করেছে বিসিক। মেলা উদ্বোধন করবেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট

ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বিকাল ৪টায় লোকসঙ্গীতের আসরের আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। ঋষিজের আয়োজনে বর্ষবরণ উত্সব হবে ভাসানী সড়কে নারকেলবীথি চত্বরে। অনুষ্ঠান শুরু হবে সকাল সাড়ে সাতটায়।

 

চ্যানেল আই ও সুরের ধারা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে চ্যানেল আই ও সুরের ধারা। ‘হাজারও কণ্ঠে কোটি বাঙালির বর্ষবরণ’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভোর সাড়ে ৫টায়। চলবে একটানা দুপুর ১২টা পর্যন্ত।


গীতসুধা

ধানমন্ডির ২৭নং সড়কের পাশে লেকের পারে সাম্পান রেস্তোরাঁ চত্বরে সকাল সাড়ে ছয়টায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে গীতসুধা রবীন্দ্রসঙ্গীত অনুশীলন কেন্দ্র। সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী বর্ষবরণ উত্সব।

জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। শিশু-কিশোরদের সংগঠন সারগাম ললিতকলা একাডেমি সঙ্গীত ও আলোচনার আয়োজন করেছে ধানমণ্ডি লেকের পাড়ে। ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতি তাদের কার্যালয়ে সকাল ৯টায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। পুলিশ কনভেনশন হলে সকাল ৯টায় বৈশাখী উত্সবের আয়োজন করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (অ্যাটাব)।

রাজধানীর পাঁচতারকা সোনারগাঁও, র্যাডিসন, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সি, খাজানাসহ হোটেল-রেস্টুরেন্টেগুলোর উদ্যোগে উদযাপিত হবে নতুন বছরের উত্সব। ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর উদ্যোগে নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজন করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। দুপুর থেকে রাত অবধি কনসার্টের আয়োজন করেছে ফ্যান্টাসি কিংডম ও নন্দন পার্ক।

জাতীয় প্রেসক্লাব বর্ষবরণে তাদের সদস্য ও পরিবারবর্গের জন্য সকাল থেকেই খৈ, মুড়ি-মুড়কি, বাতাসা ও ইলিশ খিচুরির আয়োজন রেখেছে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও তাদের সদস্য ও পরিবারের জন্যও প্রাতরাশ, দুপুরের খাবার ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।