প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্বব্যাংকের তথ্য সঠিক নয় দাবি করেছেন পরিকল্পণামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসেবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধির এ হিসেব পাওয়াগেছে। অর্থবছরের শেষ দিকে এর পুরো হিসেব পাওয়া যাবে।
বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো দাবী করেন, হরতাল-অবরোধ দেশে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। এটা কোন ভাবে জিডিপির শুন্য দশমিক এক শতাংশের বেশি নয়। তবে হরতালে অনেক মানুষ পুড়ে মারা গেছে এটি দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আউশ, আমন উত্পাদন বিগত কয়েকবছরের তুলনায় বেড়েছে। আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে যার ফলে মূল্য সংযোজন বেড়ে প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন খাতে সরকারি ব্যয়, বিদ্যুত্, গ্যাসসহ বিভিন্ন উপাদান মূল্যসংযোজন করে প্রবৃদ্ধি বাড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংকের জিডিপি নিয়ে মন্তব্যকে ধারণাপ্রসূত উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক বছরের শুরুতে বলেছিলো আমাদের এবছর ৬.৬ ভাগ প্রবৃদ্ধি হবে। এখন বলছে ৫.৬ ভাগ। তবে অরাজকতার কারণে আমাদের পরিবহনখাতে ব্যয় বেড়েছে। আর কিছু নিরীহ মানুষ মারা গেছে যা মোটেই কাম্য নয়।
মন্ত্রী জিডিপি’র বিভিন্ন খাতে নয় মাসে অগ্রগতি নিয়ে বলেন, কৃষি খাতে আউশ, আমন একই সময়ে গত অর্থ বছরে উত্পাদন ছিল একশ ৫৩ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর তা দাঁড়িয়েছে একশ পঞ্চান্ন লাখ মেট্রিক টনে। শিল্প খাতে এ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ৯.৩৮ ভাগ। এসএমই খাতে এই প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ ভাগ। বিদ্যুতে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬.৫৮ ভাগ। নির্মাণ খাতে এ প্রবৃদ্ধি ক্লিংকার-এর ক্ষেত্রে ১৬.২৬ ভাগ ।অপরদিকে লোহা ও ষ্টীলের ক্ষেত্রে তা ১৪.১২ ভাগ। পাইকারী ও খুচরা ব্যবসা উপখাতে এ বছর প্রবৃদ্ধি ৮.৫৪ ভাগ। তবে এটা সত্য পরিবহণ খাতে প্রবৃদ্ধি নগন্য।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাগেরহাটে খুব শ্রীঘ্রই খান জাহান আলী বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। আগামী অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বরাদ্দ হবে এক লাখ কোটি টাকা। আগামী বছর শেষের দিকে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের কাজ সবার কাছে দৃশ্যমান হবে।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাতির ঝিল প্রকল্পের তিন কিলোমিটার এলাকাকে মেল বোর্নের আদলে তৈরী করা। অন্যদিকে দেশে দুটি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে। একটি হবে পটুয়াখালীর পায়রায় অপরটি হবে হয় মাতারবাড়ী নতুবা সোনাদিয়ায়। তবে মাতারবাড়ীতে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
অর্থনীতিতে কালো টাকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে অঘোষিত অর্থের যোগান হচ্ছে, এজন্য আমরাই দায়ী উদাহরণ দিয়ে বলেন, জমির মূল্য কম ধরে রেজিস্ট্রেশন করা হয় ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
