বল ৯৯
চার ৭
ছয় ৮
রান ১২৩
ওহাব রিয়াজকে ডিপ স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। দু’পাশে দু’হাত মেলে দিয়ে জানান দিতে চাইলেন নিজের আনন্দটা।
সাব্বিরের এই সেঞ্চুরি আন্তর্জাতিক মর্যাদা না পেলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। তার করা ৯৯ বলের ১২৩ রানের সুবাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক উইকেটের জয় পায় বিসিবি একাদশ।
শুধু যে সেঞ্চুরিটা দলের জন্য তাত্পর্যপূর্ণ, তা নয়; পাকিস্তানের বিপক্ষে করা এই শত রানের ইনিংস নিজের ক্রিকেট জীবনের সেরা প্রাপ্তি বলে বলছেন রুম্মন, ‘এটা আমার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ নয় তাতে কি হয়েছে! পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা সত্যিই দারুণ কিছু। শত রানের ইনিংসটাকে পরিবারের প্রতি উত্সর্গ করেছেন জানিয়ে সাব্বির রহমান রুম্মন বলেন, এই ইনিংসটা আমি আমার পরিবারের প্রতি উত্সর্গ করলাম।’
সাব্বিরের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি হওয়া বাবার চিকিত্সার জন্য তাকেই দেখভাল করতে হয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দেয়া বিসিবি’র সংবর্ধনায়ও থাকতে পারেননি। বাবার অসুস্থতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন তিনি সুস্থ আছেন। গত পরশু দিন আমি বাবাকে মেডিক্যাল থেকে বাসায় রেখে ঢাকায় ফিরেছি।’
সাব্বির রহমান এমনিতে লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করে থাকেন। কিন্তু গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে চারে ব্যাট করেছেন। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন প্রসঙ্গে সাব্বির বলেন, ‘টিম ম্যানেজম্যান্ট আমাকে উপরে ব্যাটিং করতে বলেছে, তাই চারে ব্যাট করতে এলাম। জাতীয় দলের হয়ে যেখানে নামানো হোক না কেন! আমি সব জায়গাতেই খেলার জন্য প্রস্তুত।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৯ বলে সাত চার ও আট ছক্কায় ১২৩ রানের ইনিংস সাজান সাব্বির রহমান। নিজের দানবীয় ইনিংস প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাকিস্তানী বোলাররা অনেক ভালো বোলিং করেছে। তবে আমিও ভালো ব্যাটিং করেছি। শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি দ্রুত রান তোলার জন্য সেটা করতে পেরেছি।’
আগে এমন অনেক ম্যাচে শুরুতে তিন চারটা উইকেট পড়ে গেলে ধকল সামলিয়ে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ থেকে সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সাব্বিরও বলছেন, এটা নতুন বাংলাদেশের লক্ষণ, ‘আমরা বিশ্বকাপ থেকেই এটা ক্যারি করতে পারছি। আশা করছি পরবর্তীতে কখনও এমন সমস্যায় পড়লে আমরা সেটাকে স্বাভাবিকভাবে সামাল দিতে পারবো।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে মূল সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ জয়টা সত্যিই দলের জন্য ভালো হয়েছে জানিয়ে সাব্বির বলেন,‘ প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ের ফলে আমাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে ঠিক, তেমনি ওরাও আমাদের নিয়ে শঙ্কিত থাকবে। আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মূল সিরিজটা খেলতে চাই।’
গতকাল ফতুল্লাহ খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ৮১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বিসিবি একাদশ যখন খাদের কিনারায় ঠিক তখন ইমরুল কায়েসের সঙ্গে ১২৪ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ মুক্ত করার পাশাপাশি জয়ের স্বপ্ন দেখান সাব্বির রহমান।
জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন ৭০ বলে প্রয়োজন ৫৬ রান এমন সময় উইকেট হারান সাব্বির রহমান। জুনায়েদ খানের বলে ক্যাচ তুলে বিদায় নেয়ার আগে ৯৯ বলে ১২৩ রানের ইনিংস সাজান সাব্বির রহমান রুম্মন।
আজহার আলীকে দিয়ে তার দানবীয় ইনিংসের যাত্রা। বাংলাদেশ ৪৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কুপোকাত। এক পাশে সাঈদ আজমল অপর প্রান্তে বল করতে আসেন পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলী। ১৬তম ওভারে আজহার আলীর পঞ্চম বলে ডিপ স্কয়ারে সুইপ করে চার রান আদায় করেন সাব্বির রহমান রুম্মন। ঠিক পরের বলে মিড উইকেট এবং লংঅনের মাঝ দিয়ে সাব্বিরের দৃষ্টি নন্দন ছক্কা। এরপর একেএকে আটটি ছক্কা মারের সাব্বির।
ইয়াসির শাহকে মিড উইকেটের উপর দিয়ে, সাদ নাসিমকে হাঁটু গেড়ে স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে, ইয়াসির শাহাকে স্কয়ার লেগের উপর দিয়ে ওভার বাউন্ডারি হাঁকান রুম্মন। রাহাত আলীকে সামনের পায়ে পুল করে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মারেন। রাহাত আলীর ঠিক পরের ওভারে মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা। সাঈদ আজমলকে স্কায়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কা, ৩৭তম ওভারে জুনায়েদ খানকে পুল শটে মিড উইকেটের উপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করেন সাব্বির।
মাত্র আট রানে ওহাব রিয়াজের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পাওয়া সাব্বির রহমান সাজঘরে ফেরার আগে ১২৩ রানের জ্বলমলে ইনিংস খেলেন। জুনায়েদ খানের বলে লংঅপে হারিস সোহেলের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেয়ার আগে ৯৯ বলে সাত চার ও আট ছক্কায় ১২৩ রান সংগ্রহ করেন সাব্বির রহমান রুম্মন।
