বিসিবি একাদশের কাছেই ধরাশায়ী পাকিস্তান

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ০৯:৪২


১৯৯৯ সালের ৩১ মে, বিশ্বকাপের ম্যাচ। নর্দাম্পটনে পাকিস্তানকে হারিয়ে সারা বিশ্বকে জানান দিয়েছিলো বাংলাদেশ। সেই জয়ের হাত ধরে বাংলাদেশ পেয়েছে টেস্ট স্ট্যাটাস। এরপর কেটে গেছে আরও প্রায় ১৬ বছর। কিন্তু বাংলাদেশ আর কোনো ধরনের ক্রিকেটেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে পারেনি। অবশেষে সেই খরা কাটালো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একাদশ। হোক প্রস্তুতি ম্যাচ। তারপরও শ্বাসরুদ্ধকর খেলায় গতকাল বুধবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক উইকেটের জয় পেয়েছে বিসিবি একাদশ।
যদিও শুরুটা কিন্তু মসৃন ছিলো না। ২৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৮১ রানে চার উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে বিসিবি একাদশ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমান রুম্মন ও ইমরুল কায়েসের ১২৪ রানের জুটিতে ধকল কাটিয়ে জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ১২ রান। ওহাব রিয়াজ আগুন ঝরা বোলিং করলে মোহাম্মদ শহীদ তাকে মেইডেন ওভার দিতে বাধ্য হন। ১২ বলে প্রয়োজন ৯ রান। জুনায়েদ খানের করা বলটিকে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বাউন্ডারি হাঁকান তাইজুল ইসলাম। তাইজুল সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইকে দেন শহীদকে। ওভারের পঞ্চম বলটি শহীদ ব্যাটের কানায় লাগিয়ে বাউন্ডারির দিকে ঠেলে দিয়ে জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠেন।  
ফর্মে ফেরার জন্যই পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন তামিম ইকবাল। যে উদ্দেশ্যে তার প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা, সে উদ্দেশ্য হাসিল হয়নি। মাত্র নয় রানেই ফিরতে হয়েছে তাকে। জাতীয় দলে প্রথমবারে মতো সুযোগ পাওয়া রনি তালুকদারের অবস্থা ছিল আরো করুণ। রানের খাতা খোলার আগেই জুনায়েদ খানের শিকার তিনি। নয় রানে নেই দুই ওপেনার। সাব্বির রহমানকে নিয়ে প্রাথমিক ধকল সামলানোর চেষ্টা করেন লিটন কুমার দাস।
সাঈদ আজমলের বলে কাট করতে গিয়ে সরফরাজের তালুবন্দি হওয়ার আগে ২২ রান করে ফেলেন তিনি। ৮১ রানে চার উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন কঠিন চাপে তখন উইকেটে আসেন জাতীয় দলের অনিয়মিত ওপেনার ইমরুল কায়েস। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১২৪ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন কায়েস। ওয়াহাব রিয়াজের গতির বলে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ৫৬ বলে ৩৬ রান করেন। জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রয়োজন ৭০ বলে ৫৬ রান। এমন অবস্থায় জুনায়েদ খানের বলে লংঅফে থাকা হারিস সোহেলের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন সাব্বির। সাজঘরে ফেরার আগে ৯৯ বলে সাত চার ও আট ছক্কার সাহায্যে ১২৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন সাব্বির। শেষ দিকে বাকি কাজটা সারেন সোহাগ গাজী, মোহাম্মদ শহীদ ও তাইজুল ইসলাম।      
এর আগে পাকিস্তান দল হাফিজ ও ফাওয়াদের ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেটে ২৬৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে।
পাকিস্তানকে শুরুতে চাপে ফেলতে না পারলেও ইনিংসের মাঝপথে পরপর উইকেট তুলে নিয়ে অতিথিদের কোণঠাসা করে দেয় বিসিবি একাদশ।
অবৈধ বোলিং অ্যাকশনে নিষিদ্ধ থাকায় বিশ্বকাপ খেলতে না পারা হাফিজ বাংলাদেশ সফরে এসেই জানান দিলেন তিনি ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। ইনিংসের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলেছেন পাকিস্তানের এই ওপেনার। শুভাগতর শিকার হওয়ার আগে ৭৯ বলে এগার চার ও ছয় ছক্কার মারে ৮৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন হাফিজ।
উইকেটের এক প্রান্তে ব্যাটসম্যানরা যাওয়া আসার মধ্যে থাকলেও অন্য প্রান্তে ফাওয়াদ আলমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কারণে শেষ দশ ওভারে ৮৬ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। ফাওয়াদের করা ৫৮ বলে নয় বাউন্ডারির সাহায্যে ৬৭ রানের সুবাদে ২৬৮ রানের স্কোর গড়ে পাকিস্তান। বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩৯ রান খরচায় তিন উইকেট নেন শুভাগত হোম চৌধুরী।