রাবি উপাচার্যকে শাসালেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ!

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৫, ২২:২৯
 
 
এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনকে তার দপ্তরে গিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী শাসিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ওই আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের প্রশাসন ভবনের অফিসে এই ঘটনা ঘটে।
 
ঘটনার পরপরই রাবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
 
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে টুকিটাকি চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।
 
সমাবেশে ছাত্রলীগের সভাপতি রানা অভিযোগ করেন, বর্তমান উপাচার্য জামায়াত-শিবির তোষণ করছেন। শিবির নেতাদের শিক্ষক পদে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করছেন। তিনি ছাত্রলীগের পক্ষে কোনো কাজই করেন না। আমরা তার অপসারণ অথবা পদত্যাগ চাই।
 
পরে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে বিকেল ৩টা থেকে বিশ মিনিট কয়েকটি হলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রলীগ নেতকার্মীরা।
 
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে জুবেরী ভবনে অনুষ্ঠিত রাবি শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের এক জরুরি সভায় বুধ ও বৃহস্পতিবারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আব্দুল মোমেন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকারসহ ১৫/১৬ আওয়ামী লীগ নেতা পূর্বানুমতি ছাড়াই উপাচার্যের দফতরে প্রবেশ করেন। এসময় সেখানে উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এন্তাজুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা সহ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
 
আওয়ামী লীগ নেতারা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য তাদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রক্রিয়া মেনে নিয়োগ দেয়া হবে।
 
এনিয়ে সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর হাবিবুর রহমান মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেনকে হাত ধরে শান্ত হতে বলেন।
 
এনিয়ে হট্টগোলের মধ্যে ছাত্রউপদেষ্টা প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন মাতিন ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর হাবিবুর রহমান লাঞ্ছিত হন বলে জানা যায়। পরে উপাচার্য কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে আওয়ামী লীগ নেতারা বেরিয়ে যান।
 
এ ব্যাপারে মতামতের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।  তবে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই দুপুরে উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশ করে দলীয় নেতাকর্মীদের চাকরি দেয়ার কথা বলেন। এসব নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতারা শিক্ষকদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। উপাচার্যের দপ্তরে এভাবে যখন-তখন পদের কথা বলে নেতাকর্মীরা প্রবেশ করে যা ইচ্ছে বলে যাবেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপমানজনক। আজকের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটি মর্মাহত।
 
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-বিধি মেনে সবকিছু হবে, এটাই স্বাভাবিক। এখানে উপাচর্যের দপ্তরে এধরনের আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে অনেক অতিরিক্ত নিয়োগ হয়ে আছে। এ কারণে এখন আর কোনো নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। উপাচার্য তাদের এটা জানিয়েছেন। এরপরও এধরণের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মর্যাদাকার প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।’
 
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার উপাচার্যকে শাসানো এবং হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
 
তিনি সাংবাকিদের বলেছেন, ‘শিবিরের হাতে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী ফারুকের বোনের চাকরি স্থায়ী এবং আহত ছাত্রলীগ নেতা মাসুদের পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ কিছু দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু উপাচার্য আমাদের বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয় নিয়ে তিনি বাইরের কারো সঙ্গে কথা বলবেন না। এসময় নেতারা উঠে আসার সময় আমাদের সহ-সভাপতিকে এক শিক্ষক হাত ধরে টান দেন। এনিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হলে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
 
উল্লেখ্য, বুধবার রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি উপাচার্যের দপ্তরে গিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী উত্থাপিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।