রাজধানীতে নিখোঁজ (মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ ও নিখোঁজ) মানুষের সন্ধানে দ্রুত সহায়তা প্রদান করবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ জন্য ডিএমপি সদর দফতরে খোলা হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার সেল। একই সঙ্গে চুরি বা ছিনতাই হওয়া গাড়ি উদ্ধারে খোলা হচ্ছে একই ধরনের সেল। প্রত্যেকটি সেলে একজন সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে থাকবে আলাদা পুলিশ ইউনিট। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি সদর দফতরে ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে ভুক্তভোগী মানুষদের সহায়তায় এই ইউনিট দুইটি চালু হচ্ছে। বর্তমানে ডিএমপি সদর দফতরে চালু রয়েছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস।
অপরাধ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া। উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির তিন অতিরিক্ত কমিশনার, তিন জয়েন্ট কমিশনার, সকল ক্রাইম ডিভিশনের ডিসি, এডিসি, এসি ও সকল থানার ওসিরা। ডিএমপির বর্তমান কমিশনার দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তার প্রথম অপরাধ সভা (ক্রাইম কনফারেন্স)। সভার শুরুতে তিন মাসের জানুয়ারি-মার্চ অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন জয়েন্ট কমিশনার ক্রাইম।
বৈঠকে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এক সময় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হত। এ জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হতো থানায়। মানুষের এ অবস্থার কথা চিন্তা করে কয়েক বছর আগে ডিএমপি সদর দফতরে চালু হয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার। এরফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অবসান হয়েছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ডিএমপি কমিশনার নিখোঁজ মানুষ ও গাড়ি চুরির ক্ষেত্রে একই আদলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর কাঠামো ঠিক করা হয়েছে। আগামী মাসের শুরুতে এই ইউনিট দুইটি চালু হবে।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, কোন মানুষ নিখোঁজ, মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণের ঘটনার পর তার স্বজনরা রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েন। থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলেও নানা লজেস্টিক সাপোর্টের অভাবে তাদের পক্ষে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। অথচ তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে নিখোঁজ ব্যক্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা সম্ভব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়াও সম্ভব। একইভাবে ছিনতাই বা চুরি হওয়া গাড়ি দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, এ জন্য ভুক্তভোগীরা সরাসরি ডিএমপি সদর দফতরের ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ওয়ান স্টপ সার্ভিসে দায়িত্বপালনকারী পুলিশ কর্মকর্তারাই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবেন।
বৈঠক সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা বলেন, ডিএমপি কমিশনার তার বক্তব্যের শুরুতে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত তিন মাস হরতাল অবরোধ মোকাবেলায় পুলিশকে দিন-রাত কাজ করতে হয়েছে। এরফলে মামলার তদন্ত ও ওয়ারেন্ট তামিল করা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। ফলে থানা পুলিশ তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবে। বৈঠকে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়েও ডিএমপি কমিশনার বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে তিন মাসের অপরাধ চিত্র তুলে ধরা হয়। এরমধ্যে দেখা যায় সর্বাধিক ছিল গাড়ি চুরি। গত তিন মাসে গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটেছে ২২৩টি। এরমধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৯৭টি। আর গাড়ি চুরি মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ১৪৩ জন। তিন মাসে খুনের ঘটনা ছিল ৫৯টি, অপহরণ ৩০টি, ডাকাতি ৪৯টি, অস্ত্র উদ্ধার ১৬৫টি, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার ৩২৬ জন। তবে তিন মাসে থানায় দায়ের করা মোট মামলার সিংহভাগই ছিল মাদক মামলা, সংখ্যা ৭১৮টি, গ্রেফতার ৯৪১ জন।